ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বিশ্বকাপ বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে কিছুই জানতেন না আর্সেন ওয়েঙ্গার। বরং গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারেন ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান। একই সঙ্গে পরিকল্পনাটি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘একদম অপরিহার্য’ এবং ‘এ নিয়ে কোনো প্রশ্নই ওঠে না’ মন্তব্য করেছেন সাবেক আর্সেনাল কোচ।
এক বিবৃতিতে ওয়েঙ্গার বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন। আমি এই কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত ছিলাম না। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকেই প্রথম এ বিষয়ে জানতে পারি।’
২০১৯ সাল থেকে ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ওয়েঙ্গার। তার ভাষায়, ফিফায় তার দায়িত্ব মূলত খেলার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, অনলাইন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিভিন্ন দেশে যুব একাডেমির উন্নয়ন এবং তরুণদের প্রতিযোগিতা পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করা ছিল একদম অপরিহার্য এবং এ নিয়ে কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমি এমন একটি স্বাধীন ফিফায় বিশ্বাস করি, যা প্রতিশ্রুতি, স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের সেবা করবে।’
ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা ছিল ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা। তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। উয়েফাসহ তিনটি মহাদেশীয় ফুটবল কনফেডারেশন এর বিরোধিতা করে। এমনকি উয়েফা বিশ্বকাপসহ ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দেয়। শেষ পর্যন্ত সমালোচনার মুখে পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো।
ওয়েঙ্গারের এই মন্তব্যের আগে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরও অভিযোগ করেছিলেন, সংস্থাটির কর্মকর্তাদের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।
বিতর্কের জেরে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও একই পথে হাঁটতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে উয়েফা জানিয়েছে, পরিকল্পনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানালেও তারা ইনফান্তিনোর প্রতি আস্থা হারিয়েছে।
আগামী মার্চে ফিফা সভাপতির শেষ মেয়াদের জন্য আবারও নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা রয়েছে ইনফান্তিনোর। তবে সাম্প্রতিক বিতর্ক তার পুনর্নির্বাচনের পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।