লিওনেল মেসিকে উৎসর্গ করে আঁকা একটি ম্যুরাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলার পর স্বয়ং আর্জেন্টাইন মহাতারকার নজরে আসে। আর সেই ম্যুরালের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মেসির পাঠানো ভিডিও বার্তা পেয়ে রীতিমতো বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন শিল্পী ফেদেরিকো মেরোদো।
আর্জেন্টিনার বেরাসাতেগুই শহরে শিল্পী লিওনেল গার্সিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ম্যুরালটি তৈরি করেছিলেন মেরোদো। গ্লোবোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু আশা করেছিলাম পোস্টটিতে ১০ নম্বরের (মেসি) কাছ থেকে একটি লাইক বা মন্তব্য পাব। কিন্তু যখন আমরা মেসির ভিডিও পেলাম, তখন আমরা পুরোপুরি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। লিও (মেসি) ভীষণ আবেগপ্রবণ ছিলেন আর আমি যেন অবশ হয়ে গিয়েছিলাম, কোনো কথাই বলতে পারিনি।’
মেসির প্রতি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মেরোদো আরও বলেন, ‘আমাদের জন্য মেসি ত্যাগ, পরিশ্রম এবং তার প্রাপ্য পুরস্কার অর্জনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।’
ম্যুরালটি দেখে মুগ্ধ হয়ে শিল্পীদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান মেসি। সেখানে তিনি বলেন, ‘সবাইকে শুভেচ্ছা। তোমরা যা করেছ, সেই আঁকাটির জন্য এবং যেভাবে করেছ তার জন্য ধন্যবাদ জানাতেই আমি এই ভিডিওটি পাঠাতে চেয়েছি। সত্যি বলতে, এটা অবিশ্বাস্য। আমি শুনেছিলাম পোস্টে একটি লাইক দেওয়া বা এ ধরনের কিছু করার কথা, কিন্তু আমি ভেবেছি ভিডিওর মাধ্যমে ধন্যবাদ জানানোই ভালো হবে। তাই যারা এতে অংশ নিয়েছ, তোমাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। সবাইকে বড় একটি আলিঙ্গন এবং শুভকামনা।’
মেরোদোর ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যুরাল তৈরির ধারণাটি আসে শিল্পী লিওনেল গার্সিয়া এবং এক উদ্যোক্তার কাছ থেকে। তাঁদের লক্ষ্য ছিল আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেস প্রদেশের প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার জনসংখ্যার শহর বেরাসাতেগুইয়ে মেসিকে বিশেষভাবে তুলে ধরা।
ম্যুরালটি তৈরিতে প্রায় ২০ জন মানুষ অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে শিক্ষক, নির্মাণশ্রমিক ও দোকানদারও ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর শিল্পকর্মটিতে এক হাজারের বেশি সমর্থক স্বাক্ষর করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের নাম রেখে যাওয়া এবং মেসির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা, যাতে এই সম্মিলিত শ্রদ্ধার্ঘ্যের অংশ হওয়া যায়।
ম্যুরালটি প্রচারের একটি পোস্টে মেরোদো ও গার্সিয়া লিখেছিলেন, ‘হাই লিও (মেসি), বেরাসাতেগুইয়ে তৈরি এই বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্যের মাধ্যমে আমরা সেই দিনের আনন্দকে আবারও তুলে ধরতে চেয়েছি—১৮ ডিসেম্বর ২০২২, যেদিন তোমরা ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলে। সেদিন মতাদর্শ কোনো বিষয় ছিল না, গুরুত্বপূর্ণ ছিল শুধু আর্জেন্টাইন হওয়ার আনন্দ।’
মেরোদো ও গার্সিয়া আরও লেখেন, ‘এই কাজটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি মাধ্যম হতে পেরে এবং তুমি যে আনন্দ লাখো মানুষের জীবনে এনে দিয়েছ, তার সামান্য অংশও ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা দুজনই গর্বিত ও আনন্দিত। ধন্যবাদ।’