ম্যাচের ৬৭ মিনিটে যখন মোস্তফা জিকোর গোলে ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা, তখন আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের গন্ধই ভাসছিল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছেন লিওনেল মেসি, মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর একের পর এক সেভে হতাশ করেছেন আর্জেন্টিনাকে। তবু মাঠে থাকা একজন মানুষকে দেখে মনে হয়নি বিশ্বাস হারিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসই বাস্তবে রূপ নিল। ১৩ মিনিটে তিন গোল করে ৩–২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে মেসির কথাতেও ফিরে এল সেই বিশ্বাসের গল্প। তিনি বলেন, ‘এটাই বিশ্বকাপ, আর সব ম্যাচই একইভাবে এগোচ্ছে।’
প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস, পরে সমতাসূচক গোল—ম্যাচজুড়ে আবেগের দোলাচলে থাকা আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ফিরে দেখলেন দলের লড়াইয়ের মানসিকতাকেই। তাঁর ভাষায়, ‘আমি খুবই আনন্দিত। ২–০ গোলে পিছিয়ে থেকে ফিরে আসা সহজ নয়। কিন্তু আমি সব সময়ই বলি, এই দল কখনো হার মানে না, শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যায়। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম, কারণ কুতির (ক্রিস্তিয়ান রোমেরো) গোলটা দ্রুত পেয়ে গিয়েছিলাম। এরপর আমাদের হাতে সময় ছিল।’
রোমেরোর সেই গোলই যেন বদলে দেয় ম্যাচের গতি। চার মিনিট পর নিজেই সমতা ফেরান মেসি। এরপর যোগ করা সময়ে এনসো ফের্নান্দেসের হেডে আসে জয়সূচক গোল। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিদায়ের দুয়ার থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে গ্যালারির দিকেও তাকাতে ভোলেননি মেসি। পুরো ম্যাচজুড়ে সমর্থকদের উৎসাহ পেয়ে তিনিবলেন, ‘আজ এই দল যা করেছে, তা অবিশ্বাস্য। মানুষ আমাদের পাশে থাকতে পারছে এবং আমরা যা করছি, তা উপভোগ করতে পারছে—এ জন্য আমি খুবই আনন্দিত।’
মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। পরে ৮৩ মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন তিনি। এর আগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্টও করেন। যোগ করা সময়ে এনসো ফের্নান্দেসের জয়সূচক গোলে ৩–২ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।