পুরো ম্যাচে ডাগআউটে বেশ হাসিমুখেই দেখা গেল লিওনেল মেসিকে। হন্ডুরাসের বিপক্ষে পাখির চোখেই সতীর্থদের পারফরম্যান্স দেখেছেন। খেলা দেখার পাশাপাশি বেঞ্চে থাকা বাকিদের সঙ্গে কথা বলেও সময় পার করেছেন দশ নম্বর জার্সিধারী। চোট জনিত ঝুঁকি এড়াতেই হন্ডুরাসের বিপক্ষে তাঁকে মাঠে নামাননি লিওনেল স্কালোনি।
মেসি না থাকার প্রভাব অবশ্য টের পায়নি আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেস ও জুলিয়ানো সিমিওনির গোলে হন্ডুরাসের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে মাঠ ছেড়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। মেসিকে ছাড়াও যে প্রতিযোগিতামূলক ও কার্যকর ফুটবল খেলা সম্ভব, আরও একবার সেটাই প্রমাণ করে দেখাল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। টেক্সাসের কলেজ স্টেশনের কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে এদিন দলের গভীরতা ও বিকল্প শক্তি যাচাই বাছাই করেছেন স্কালোনি। সান্তিয়াগো বেলত্রান, হোয়াকিন ফ্রেইতাস, টমাস আরান্দাদের মতো তরুণদের অভিষেক করিয়েছেন। সিনিয়র দলে অভিষেক হওয়া হওয়া এরা সবাই কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই হন্ডুরাসের বিপক্ষে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট স্কালোনি।
স্কালোনি বলেন, ‘আমাদের জন্য ম্যাচটি ইতিবাচক ছিল। আমরা একটি ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জিতেছি। তাদের জন্যও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ তারাও বিশ্বকাপের জায়গা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে আছে। কিন্তু আমরা আমাদের খেলাটা খেলতে মাঠে নেমেছিলাম এবং সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সেটা আমরা করেছি। আমরা নিজেদের ধরনেই খেলতে চেয়েছি এবং আমি খুশি যে সবাইকে খেলার সুযোগ দিতে পেরেছি।’
দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের চোটের সবশেষ খবর জানিয়েছেন স্কালোনি। বিশেষ করে নিকো পাস ও হুলিয়ান আলভারেসের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশাবাদী তিনি, ‘নিকো এখন পুরোপুরি প্রস্তুত, আজও খেলতে পারত। আর হুলিয়ানের ক্ষেত্রে আমরা শুধু গোড়ালির অস্বস্তিটা দূর করার চেষ্টা করছি। কোনো তাড়া নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যখন তাকে প্রয়োজন হবে, তখন যেন কোনো সমস্যা না থাকে।’
শুধু জয় নয়, নতুন মুখদের পারফরম্যান্সকেও এই ম্যাচের বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন স্কালোনি, ‘ওদের সবাইকে আমার ভালো লেগেছে। তারা আমাকে উচ্ছ্বসিত করেছে। শুধু আফসোস, ওভান্দোকে খেলাতে পারিনি, কারণ আমাদের বদলির সুযোগ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বেলত্রান, আরান্দা ও ফ্রেইতাস—তিনজনকেই আমরা অনেক দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছি। অনুশীলনে তাদের মনোভাব আমাদের মুগ্ধ করেছে এবং তারা দলকে অনেক কিছু দিতে পারে।’
আরান্দার আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করে স্কালোনি বলেন, ‘আরান্দার মধ্যে দারুণ আত্মবিশ্বাস আছে। সে সব সময় বল চাইতে থাকে। জানি না আপনারা খেয়াল করেছেন কি না, সে মাঠে নেমেছিল চুইংগাম চিবোতে চিবোতে, যেন নিজের বাড়ির উঠোনে খেলছে! আমি তাকে বলেছিলাম চুইংগামটা ফেলে দিতে, কারণ সে অনুশীলনেও চুইংগাম চিবোয়। সে এতটাই স্বচ্ছন্দ, এতটাই আত্মবিশ্বাসী এবং আরামদায়ক অবস্থায় থাকে যে তাকে সত্যিই অসাধারণ একজন খেলোয়াড় মনে হয়। বেলত্রানকেও আমরা ভালো করেই চিনি, কারণ আগে সে আমাদের স্প্যারিং পার্টনার ছিল। এখন সে জাতীয় দলের পূর্ণাঙ্গ একজন খেলোয়াড়।’