লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, আর্লিং হালান্ডদের সবাই চেনে। রোনালদোকে বাদ দিলে মাত্রই শেষ হওয়া বিশ্বকাপে প্রত্যাশামতো আলোও ছড়িয়েছেন তাঁরা। কিন্তু প্রাক্-টুর্নামেন্টে আলোচনায় না থাকা বেশ কয়েকজন তারকাও আলো ছড়িয়েছেন এবারের বিশ্বকাপে।
আড়াল থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে আলোয় আসা ফুটবলারদের তালিকার অগ্রভাবে থাকবেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের দ্বীপরাষ্ট্র প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলেই উঠে আসে নকআউটে। আর দলটির এই স্বপ্নযাত্রার অগ্রনায়ক ছিলেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে হতাশ করেছেন দুর্দান্ত সব সেভে, শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনাকেও প্রায় থামিয়ে দিয়েছিলেন। মাঠের পারফরম্যান্সের প্রভাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারীর সংখ্যাতেও। আগে যেখানে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার, সেখানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক কোটি!
মরক্কোর দুই তরুণ ফুটবলার—ইসমায়েল সাইবারি ও আইয়ুব বুয়াদ্দিও চলে আসেন এই তালিকায়। আশরাফ হাকিমির মতো দুজনের কেউই বিশ্ব কিংবা ক্লাব ফুটবলে পরিচিত মুখ ছিলেন না। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে তাঁদের পরিচিত করে তুলেছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ইসমায়েল সাইবারি গোল করে মরক্কোর আক্রমণের মুখ হয়ে ওঠেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৭১ সেকেন্ডে গোল করে গড়েন দেশের দ্রুততম বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারের জয় নিশ্চিত করা শটটিও নিয়েছিলেন তিনি। আর বুয়াদ্দি দেখিয়েছেন, তাঁর বয়স মাত্র ১৮ হলেও একজন পরিণত ফুটবলারের মতো খেলতে পারেন। মাঝমাঠে তাঁর পরিণত ফুটবল, বল নিয়ন্ত্রণ আর ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার সামর্থ্য মরক্কোর সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।
মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনোনিয়েসও বলতে গেলে এই বিশ্বকাপের আবিষ্কার। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল, কিন্তু বিশ্বকাপে চার গোল করে তিনি সেই বিতর্কের ইতি টেনেছেন।
উদ্বোধনী ম্যাচেই করেছেন আসরের প্রথম গোল, এরপর গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচগুলোতেও গোল করে মেক্সিকোর ইতিহাসে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারে জায়গা করে নিয়েছেন।
সুইজারল্যান্ডের ইয়োহান মানজাম্বি বিশ্বকাপে নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেছেন। বসনিয়ার বিপক্ষে বদলি নেমে মাত্র ১৯ মিনিটে জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়েছেন। এরপর কানাডার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে দলকে গ্রুপসেরা করতেও অবদান রাখেন। চোট তাঁর বিশ্বকাপ দ্রুত শেষ করে দিলেও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় মিডফিল্ডার হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে।
এই বিশ্বকাপে আফ্রিকার সবচেয়ে সফল দল মরক্কো। প্রথমবারের মতো দলটির কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসার পেছনে অনেকেরই অবদান। কিন্ত তাঁর অবদানও কম নয়। ২ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট তাঁর। অথচ মিসরের বিশ্বকাপ দল জায়গা পাওয়ার কথাই ছিল না তাঁর।
আরেক আলোচিত নাম যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগান। যদিও লাল কার্ড পাওয়ার পরও ট্রাম্পের ‘হস্তক্ষেপে’ পরের ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়াটা তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। কিন্তু এই বির্তকের আগেই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলেছেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন। আর ৩ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপটিকে স্মরণীয় করে রেখেছেন।