এক বছর আগেও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবলে খেলতেন চো উই-জে। এখন তিনি বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায়। চোট পাওয়া এক খেলোয়াড়ের বদলি হিসেবে শেষ মুহূর্তে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ২৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে।
চো ইউ-মিন পায়ের চোটে পড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার দলে ডাকা হয়েছে উই-জেকে। বিশ্বকাপের আগে গা গরমের ম্যাচে গত শনিবার ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। সে ম্যাচের পর চোটের কারণে ছিটকে যান চো ইউ-মিন। তাতেই চো উই-জেকের বিশ্বকাপ স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পথে।
এর আগে উই-জে দলের সঙ্গে প্রশিক্ষণ পার্টনার হিসেবে ছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি কেএ লিগ ২-এর বুসান আইপার্কের হয়ে খেলেছেন। বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়ার বিষয়টি এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি। সোমবার উটাহতে দলের ক্যাম্পে সাংবাদিকদের উই-জে বলেন, ‘গত বছর যদি কেউ আমাকে বলত যে আমি ২০২৬ বিশ্বকাপে যাচ্ছি, আমি কখনোই বিশ্বাস করতাম না। এটা স্বপ্নের মতো লাগছে।’
বছরের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার চ্যাম্পিয়ন জেওনবুক হিউন্দাই মোটরসে যোগ দেন উই-জে এবং শীর্ষ লিগে প্রথম সুযোগেই নিজের প্রতিভার জানান দেন। এখন তিনি জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বায়ার্ন মিউনিখের কিম মিন-জায়ের সঙ্গে বিশ্বকাপে জুটি বাঁধবেন। কিম মিন-জায়ে দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলছেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে প্রায় ৮০টি ম্যাচ খেলেছেন। অনভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে উই-জে বলেন, ‘তিনি (মিন-জায়ে) ইউরোপের শীর্ষ খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিশাল অভিজ্ঞতা রাখেন, আমি চাই তাঁর কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করতে। মিন-জায়ে অনেক বেশি দ্রুতগতির খেলোয়াড়দের একজন। ওই লেভেলে যেতে হলে আমাকে আরও দ্রুত পায়ে চলতে হবে।’
ইউ-মিনের অভাব পূরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন উই-জে, ‘ইউ-মিন আমাদের বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, বিশ্বকাপ দল ছেড়ে তার চলে যেতে দেখা সত্যিই খুব কষ্টের ছিল। ইউ-মিনের জায়গা পূরণ করতে হলে আমাকে যতটা সম্ভব ভালো পারফর্ম করতে হবে।’
‘এ’ গ্রুপে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ১২ জুন চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে এশিয়ার দলটি। গ্রুপে সন হিউং মিনদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।