সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এখন এস্তেভাও উইলিয়ান থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রে। সতীর্থদের সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতেন তিনি। কিন্তু চোটে পড়ায় ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ খেলাই হলো না তাঁর। সেই দুঃসহ বেদনার গল্প শুনিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
গত ১৮ মে ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ৭০০ সাংবাদিকের উপস্থিতিতে সেই দল ঘোষণার সময় নেইমারের নাম উচ্চারিত হতেই হই চই পড়ে গিয়েছিল সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। কিন্তু মাংসপেশির গুরুতর চোটের কারণে এস্তেভাও জায়গাই পেলেন না ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ সুযোগ না পেয়ে অবুঝ শিশুর মতো হয়ে গিয়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পাওয়ার সেই মুহূর্ত এস্তেভাওয়ের কেমন গিয়েছিল, সেই বর্ণনা সম্প্রতি ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। ১৯ বছর বয়সী ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলা আমার জন্য স্বপ্ন পূরণের মতো। সবাই এই সুযোগের আশা করে। এটা আমার জন্য এক হৃদয়বিদারক মুহূর্ত ছিল। আমার বাবা-মায়ের বুকে মাথা রেখে অনেক কেঁদেছিলাম। সত্যি বলছি। আমি এটা নিয়ে মজা করছি না। এমন মুহূর্তগুলোতে আপনি যাদের ভালোবাসেন, তাদেরই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়।’
সদ্য শেষ হওয়া মৌসুম যে এস্তেভাওয়ের খুব ভালো গিয়েছে, তা নয়। চেলসির জার্সিতে ৩৬ ম্যাচে করেছেন ৮ গোল। অ্যাসিস্ট করেছেন ৪ গোলে। তাঁর দলও আগামী মৌসুমের (২০২৬-২৭) চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। এই প্রিমিয়ার লিগেই এপ্রিলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে হ্যামস্ট্রিংয়ের যে চোট পেয়েছেন, সেটাই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এস্তেভাও উল্লেখ করেছিলেন সেই মুহূর্তের কথা, যখন চিকিৎসক তাঁর মা-বাবাকে দিয়েছিলেন দুঃসংবাদ। ব্রাজিলের ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড বলেন, ‘‘আমি যখন ঘুম থেকে উঠলাম, তখন গোসল করতে গিয়েছিলাম। সেদিনই ডাক্তার বলেছিলেন যে তিনি আমাকে একটি পরীক্ষার ফল জানাবেন। এর মধ্যে তিনি আমাকে তিনবার ফোন করেছিলেন। পরে আমি তাকে ফোন করলে তিনি বললেন, ‘তোমার বাবা-মাকে নিয়ে এখানে আসো, কারণ আমরা তাদের সঙ্গেও কথা বলতে চাই।’ আমরা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম যে যদি অন্য কোনো সাধারণ খবর হতো, তাহলে তারা আমাকে সরাসরি বলে দিতেন। কিন্তু যখন তাঁরা বললেন বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে আসতে, তখনই আমার মনে হলো যে এর চেয়ে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমার মনে হয় সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল যখন আমি আসল খবরটা জানতে পারলাম যে এটা চতুর্থ গ্রেডের চোট ছিল। যদিও চতুর্থ গ্রেডের চোটের ব্যাপারে কোনো ধারণা ছিল না, দুর্ভাগ্যবশত সেটাই ঘটেছে।’
বিশ্বকাপের আগে জুনের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিল দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই জিতেছে। পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়েছে আনচেলত্তির দল। গতকাল মধ্যরাতে মিসরের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে ব্রাজিল। ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। ২০ ও ২৪ জুন হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা।