অসাধারণ, অবিশ্বাস্য, অনবদ্য—গত রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখ-রিয়াল মাদ্রিদ কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ নিয়ে যা বলা হবে, তা যেন কমই। গোলের বন্যায় ভেসে গেছে ম্যাচ। কখনো এগিয়ে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ, কখনোবা বায়ার্ন। এত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ধারাভাষ্যকাররাও রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন। রেকর্ড গড়া হ্যারি কেইন পেয়ে গেছেন বিশেষ এক উপাধিও।
শুরু থেকেই জমে ওঠা বায়ার্ন-রিয়াল ম্যাচে চার গোল হয়ে যায় ৪০ মিনিটের আগেই। ম্যাচ এমন এক ছন্দে চলছিল, যেখান থেকে চোখ সরানোর কোনো উপায় ছিল না। বিশেষ করে ৩৮ মিনিটে দায়োত উপামেকানোর পাস রিসিভ করে রক্ষণদুর্গ ভেদ করে কেইন যে গোল করেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ। এই গোলের পর ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে উচ্চকণ্ঠে শোনা যায় ‘কেইন মেশিন, কেইন মেশিন’ শব্দ। কারণ, ৩৮ মিনিটের এই গোলটি কেইনের এবার বায়ার্নের জার্সিতে ৫০তম গোল।
মাইলফলকের গোল করার পর কেইনের চোখে মুখে দেখা যায় উচ্ছ্বাস। বায়ার্নের জার্সিতে এবার ৪২ ম্যাচ খেলে ৫০ গোল করেন তিনি। সবশেষ তিন বছরে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে থাকা ফুটবলারদের মধ্যে এক মৌসুমে ৫০ বা তার বেশি গোল করছেন কেবল দুই ফুটবলার। ২০২২-২৩ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৫২ গোল করেছিলেন আর্লিং হালান্ড। সেবার তিনি খেলেছিলেন ৫৩ ম্যাচ। তাঁর চেয়ে কম ম্যাচ খেলে এবার গোলের ফিফটি পূর্ণ করেছেন কেইন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে কেইনের ৫০ গোলের মধ্যে ৩১ গোল এসেছে বুন্দেসলিগায়। ১২ গোল করেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগে। এখানেও ম্যাচের (১১) চেয়ে বেশি গোল করেছেন ইংল্যান্ডের তারকা ফরোয়ার্ড। গতকাল রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে টিএনটি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘মাদ্রিদের মতো একটি দলকে হারানো, বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষের দিকের পর্যায়ে সেটা আপনাকে আত্মবিশ্বাস দেয়।’
গতকাল আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই সাত গোলের মধ্যে প্রথমার্ধেই হয়েছে ৫ গোল। আর শেষের দিকে বায়ার্নের দুই ফুটবলার লুইস দিয়াজ ও মাইকেল ওলিস। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ গোলে জিতে সেমির টিকিট কাটার পর কেইন বলেন, ‘আমাদের এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।’
সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মুখোমুখি হবে বায়ার্ন। এই পিএসজি দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলে হারিয়ে উঠেছে সেমিফাইনালে। প্যারিসিয়ানদের বিপক্ষে জেতাটা যে সহজ হবে না, সেটা মানছেন কেইন নিজেও। বায়ার্নের তারকা ফরোয়ার্ড বলেন, ‘নিজেদের দিনে আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি।পরের রাউন্ডে তেমন কিছুরই প্রয়োজন হবে। কারণ, পিএসজি সেরা সেরা দলগুলোর একটি।’
২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত টানা ১৪ বছর টটেনহামে ৪৩৫ ম্যাচে করেছেন ২৮০ গোল। টটেনহাম ছেড়ে বায়ার্ন মিউনিখে আসার পরই বদলে যাওয়া এক কেইনকে দেখা যাচ্ছে। বায়ার্নের জার্সিতে গড়ে প্রায় একটি করে গোল করেছেন। জার্মান ক্লাবটির হয়ে ১৩৮ ম্যাচে তাঁর গোল ১৩৫। ২০২৪-২৫ মৌসুমের বুন্দেসলিগা জয়ের পাশাপাশি গত বছর জিতেছেন ডিএফএল ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার সুপার কাপ।