এ বছর ৯০ বছরে পদার্পণ করেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব । ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ এই অবস্থানে এসেছে। সফলতার এই দীর্ঘ পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে এবার বিশেষ উদ্যাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ক্লাবের নতুন ম্যানেজমেন্ট।
আজ মোহামেডান ক্লাব প্রাঙ্গণে নবনির্বাচিত পরিচালকদের এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ক্লাব প্রেসিডেন্ট বরকত উল্লাহ বুলু এবং ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জানান, প্রতিষ্ঠার ৯০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তারা একটি বিশাল মিলনমেলার আয়োজন করতে যাচ্ছেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁর সবুজ সংকেত পেলেই চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে। এই মহোৎসবে ক্লাবের সব যুগের দেশী-বিদেশী প্রাক্তন তারকা, দাতা সদস্য, স্থায়ী ও আজীবন সদস্যসহ অগণিত ভক্ত-অনুরাগীকে এক ছাদের নিচে জড়ো করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মোহামেডানের পক্ষ থেকে একটি আধুনিক ও যুগান্তকারী ঘোষণা দেওয়া হয়। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি সমর্থককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবার ইউরোপীয় ক্লাব কালচারের আদলে ‘ফ্যান ক্লাব’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ক্লাব কর্মকর্তারা জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় মোহামেডানের সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হবে। যেখানে কমিটি নিষ্ক্রিয় বা নেই, সেখানে স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীদের সম্পৃক্ত করে নতুন কমিটি তৈরি করা হবে।
এক সময় মাঠের অনেক ডিসিপ্লিনে মোহামেডানের জয়জয়কার থাকলেও এখন তাদের মূল শক্তি ফুটবল, ক্রিকেট ও হকি। গত মৌসুমে দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ লিগ শিরোপা জিতেছিল সাদা-কালোরা। এবারও তারা ফেডারেশন কাপের ফাইনালে পা রেখেছে। ক্রিকেটেও এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়েছে ক্লাবটি। তবে চলতি ফুটবল মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের কাছে শিরোপা হারালেও, সমর্থকদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নতুন কমিটি। আগামী মৌসুমে লিগ পুনরুদ্ধারে এবং হকি লিগে চ্যাম্পিয়ন হতে শক্তিশালী দল গড়ার শতভাগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।
সাভারে ক্লাবের নিজস্ব ২৫ একর জমিতে ভেন্যু নির্মাণের ঝুলে থাকা মেগা প্রজেক্টের আলোর মুখ দেখাতে নতুন করে তোড়জোড় শুরু করেছে এই কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিলে ক্লাবের বর্তমান মাঠ ও জমির স্থায়ী বন্দোবস্ত পাওয়ার ক্ষেত্রে সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে মির্জা আব্বাসকে ক্লাবের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত করা হয়েছে।