মেয়েদের সিনিয়র এশিয়ান কাপে খেলেনি থাইল্যান্ড। অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে অবশ্য তারাই আয়োজক। প্রথম ম্যাচে আজ তারা মুখোমুখি হবে প্রথমবার এই টুর্নামেন্ট খেলতে আসা বাংলাদেশের। থাম্মাসাত স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়।
গত আগস্টে অন্যতম সেরা গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে বাছাই থেকে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। এরপর অনেক স্বপ্ন দেখা হলেও বাস্তবতার খাতায় প্রতিশ্রুতির ছিটেফোঁটাও দেখা মেলেনি। প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়েই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় যায় এশিয়ান কাপে খেলতে।
অনুমিতভাবে সেখান থেকে বিদায় নিতে হয় গ্রুপ পর্বেই। তবে ফুটবল বিশ্বকে দেখেছে বাংলাদেশও লড়াকু ফুটবল খেলতে জানে। আফঈদা-সাগরিকারা আজ সামনে দাঁড়িয়ে আরও এক ইতিহাসের।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার বলেন, ‘আমি সব সময় মেয়েদের নিজেদের সেরাটা দেওয়ার এবং অকৃত্রিম ফুটবল খেলার ওপর জোর দিয়েছি। সাফ ও এএফসির মান সম্পূর্ণ আলাদা। এএফসিই হলো সেই আসল মঞ্চ, যেখানে আপনি খেলার স্বপ্ন দেখবেন; সেটি সিনিয়র হোক বা অনূর্ধ্ব-২০।’
থাইল্যান্ডেও সীমিত সম্পদ নিয়ে লড়াকু ফুটবল উপহার দিতে চান বাংলাদেশ কোচ। দলের জন্য সুবিধার দিক হলেও এই দলের বেশির ভাগ ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ায় সিনিয়র এশিয়ান কাপের দলে ছিলেন। তাই তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার দারুণ মিশেলে দল গড়ে তুলেছেন তিনি।
গতকাল অনুশীলনে কৌশলগত সচেতনতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পজিশন-ভিত্তিক মুভমেন্ট ও সেট-পিস রুটিন নিয়েও কাজ করেছেন কোচিং স্টাফরা। বাটলার বলেন, ‘আশা করি এটি মেয়েদের জন্য একটি চমৎকার শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হবে এবং তারা এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট থেকে কিছু শিখতে পারবে। আমি অনূর্ধ্ব-২০ দলের তরুণ ১০-১২ খেলোয়াড়কে সিনিয়র এশিয়ান কাপে নিয়েছিলাম, কারণ তারা জাতীয় দলের কার্যক্রমের সঙ্গেই ছিল। আমরা কিছু ম্যাচে হেরেছি ঠিকই, তবে এই যাত্রায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয় উঠে এসেছে।’
নারী অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ লাওস ও পূর্ব তিমুরকে হারালেও বড় ধাক্কা খায় দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে। গত অক্টোবরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলে সিনিয়র দল। দুই ম্যাচেই দেখতে হয়েছে হার।
অতীত ভুলে বাটলার টুর্নামেন্ট থেকে খুঁজে পেতে চান ইতিবচকতা। তিনি বলেন, ‘আমি চাই মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করুক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলুক। সিনিয়র টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স আমাদের আশাবাদী করছে। ফল যাই হোক, আমি মাঠে ইতিবাচক ফুটবলের প্রতিফলন দেখতে চাই।’
এই টুর্নামেন্টে থাইল্যান্ড সর্বশেষ খেলেছিল ২০১৯ সালে। ২০০৪ সালে সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতাও আছে তাদের। এবার ঘরের মাঠে খেলা বলেই বেশ আত্মবিশ্বাসী দলটির প্রধান কোচ নুংরুতাই প্রাথংভিয়ান, ‘আমরা ভেন্যুগুলোতে কঠোর অনুশীলন করেছি এবং টুর্নামেন্টের জন্য আমাদের প্রস্তুতি সেরা। অনেক ট্রেনিং ক্যাম্প করার পাশাপাশি ঘরের মাঠের দর্শকদের সমর্থন আমাদের বাড়তি শক্তি দেবে। আমরা সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে জয়ের জন্য প্রস্তুত।’