কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের দিনটি যেন আগে থেকেই শুধুই লিওনেল মেসির গল্প হয়ে থাকার জন্য নির্ধারিত ছিল। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের পুরোটা জুড়েই তো রইলেন ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা। গোল করলেন, করলেন হ্যাটট্রিক কে জানত ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের শুরুটা করবেন কেবল ইতিহাস আর ইতিহাস দিয়ে!
ম্যাচের শুরুতেই দুই দলের একটি করে গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে মাঠে কিছুটা নাটকীয়তার তৈরি হয়েছিল। তবে সেই আবহ বেশি সময় টেকেনি, কারণ ম্যাচের ১৬ মিনিটেই শুরু হয় মেসি জাদু। রদ্রিগো দে পলের পাস থেকে আলজেরিয়ার ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এরপর তাঁর সেই চেনা শরীরী মোচড়ে এক দুর্দান্ত টার্ন এবং বাঁ পায়ের জাদুকরী শটে বল পাঠান জালে।
এই চোখধাঁধানো গোলের মধ্য দিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন মেসি।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মেসির পায়েই। মাঝমাঠের সাধারণ কিছু আক্রমণ বাদ দিলে ম্যাচের ৬০ মিনিটে আবারও আলোর ঝলকানি দেখান তিনি। আলেক্সিস মাক আলিস্তারের নেওয়া একটি দূরপাল্লার জোরালো শট ঠিকমতো তালুবন্দী করতে পারেননি আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। বল হাত থেকে ফসকে যেতেই সেখানে ওত পেতে থাকা মেসি চিতার গতিতে এক সহজ ট্যাপ-ইনে বল জালে জড়ান।
তবে মেসির রূপকথা তখনো শেষ হতে বাকি ছিল। ৭৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে এক বিদ্যুৎগতির পাল্টা আক্রমণে বল নিয়ে ছুটে যান তিনি। সতীর্থের সঙ্গে চমৎকার এক ‘ওয়ান-টু’ করে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বোকা বানান। এরপর বক্সের বাইরে থেকে থেকে নিখুঁত এক শটে বল জালে পাঠিয়ে নিজের অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। গ্যালারিতে বসা লুকা জিদানের বাবা, ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান তখন কেবল রুক্ষ মুখে মাথা নাড়ছিলেন। এই ঐতিহাসিক গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন মেসি। শুদু তা–ই নয়, ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে পেলেন প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা।
হ্যাটট্রিক উদযাপনের পর ৮০ মিনিটে যখন কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসিকে মাঠ থেকে তুলে নেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে এই ফুটবল জাদুকরকে সম্মান জানায়। সাধারণ ফুটবলীয় লড়াই ছাপিয়ে এই ম্যাচটি তাই আর্জেন্টিনার জয়ের চেয়েও বেশি মনে থাকবে বিশ্বমঞ্চে মেসির আরেক মহাকাব্য হিসেবে।