গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল জার্মানির। জার্মানদের কাছে সুযোগ ছিল অপরাজিত হয়ে শেষ বত্রিশে যাওয়ার। কিন্তু তা আর হলো না। উল্টো তাদের হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ইকুয়েডর। হারের পর মেজাজ হারালেন জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগলসমান।
শিষ্যদের ওপর নয়, নাগলসমান রাগ উগড়ে দিয়েছেন সাংবাদিকের ওপর। ইকুয়েডরের কাছে হার নিয়ে জার্মানির ফুটবলারদের আত্মনিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এক সাংবাদিক। প্রশ্নের উত্তরে জার্মান কোচ বলেন, ‘বাজে বকা বন্ধ করুন।’
নিউইয়র্কে গত রাতে ২ মিনিটে লিরয় সানের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় জার্মানি। সমতায় ফিরতে বেশি সময় লাগেনি ইকুয়েডরের। ৯ মিনিটে জার্মান রক্ষণদুর্গ ভেদ করে নিকোলাস আনগুলা সমতায় ফেরান ইকুয়েডরকে। ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে দুই দলই সমানে সমানে খেলতে থাকে। তবে জার্মানির জামাল মুসিয়ালা একের পর এক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি।
জার্মানদের ভুলের সুযোগ নিয়ে ইকুয়েডরের মিডফিল্ডার ৭৬ মিনিটে গোল করেন গনসালো প্লাতা। এটাই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হারের পর নাগলসমান বলেন, ‘শুরুটা আমরা দারুণ করেছিলাম। কিন্তু গোল দেওয়ার পরই কৌশলগত আত্মহত্যা করতে থাকি আমরা। এতেই জিনিসটা অনেক কঠিন হয়ে গিয়েছে।’
গোল করতে মরিয়া ইকুয়েডর একের পর এক চেষ্টা করেছে। জার্মানির গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার সেই আক্রমণগুলো প্রতিহত করেছেন। তবে ৭৬ মিনিটে জটলার মধ্য দিয়ে প্লাতা যে গোল করেছেন, তা অসাধারণ। ইকুয়েডর ফরোয়ার্ড কেভিন রদ্রিগেস প্রথমে গোল করতে না পারলেও হেডে ফিনিশিং দিয়েছেন প্লাতা। ম্যাচ শেষে নাগলসমান বলেন, ‘ইকুয়েডর শুরু থেকেই পূর্ণ গতিতে খেলেছে। তাদের এই ম্যাচ থেকে অনেক কিছু পাওয়ার ছিল। তবে আমি এটা অস্বীকার করব না যে শিষ্যরা নিজেদের পুরোটা উজাড় করে দেয়নি।’
তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ বত্রিশে উঠেছে জার্মানি। দুইয়ে থাকা আইভরি কোস্টের পয়েন্টও ৬। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। ইকুয়েডর চার পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে। আর প্রথমবার খেলতে আসা কুরাসাও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে কুরাসাও গোলরক্ষক এলয় রুম ১৫ সেভ দিয়ে জয়ের সমান ড্র এনে দিয়েছিলেন।