বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির শেষের শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের পুরো আলোটাই কেড়ে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ বর্তমান, সাবেক খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ভক্ত-সমর্থকেরা। এবার মেসিকে প্রশংসায় ভাসালেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস মাক আলিস্তার।
আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শুরুটা হয়েছে উড়ন্ত। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হয়ে তিনটি গোলই করেন মেসি। এমন শুরুর পর এই ফরোয়ার্ডের ওপর প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে। ভক্তদের আশা, মেসির এমন ফর্মে শিরোপা ধরে রাখবে আর্জেন্টিনা।
‘জে’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামীকাল রাতে ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। তার আগে মেসির প্রশংসা করতে গিয়ে আলিস্তার বলেন, ‘আমি মেসিকে খেলতে দেখতে ভীষণ উপভোগ করি। তাঁর মতো আর কেউ হবে না। এমন একজন ফুটবলারকে দেখা একদম আলাদা অভিজ্ঞতা। সে যা করে, তা অসাধারণ। তাঁর কাছ থেকে শেখা কঠিন; কারণ, সে মাঠে কী করে, সেটা সবাই জানে। সেটা করা যায় না। আমি মেসির কাছ থেকে যেটা শিখি, তা হলো তার মূল্যবোধ ও বিনয়।’
ফুটবলে পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়েও কথা বলেন আলিস্তার। তাঁর বাবা কার্লোস ম্যাক অ্যালিস্টার খেলেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে। এই প্রসঙ্গে লিভারপুল তারকা বলেন, ‘আমরা খুব সৌভাগ্যবান একটি পরিবার। আমার বাবা ম্যারাডোনার সঙ্গে খেলেছেন, আর আমি খেলছি মেসির সঙ্গে। বাবা সব সময় বলেন, ম্যারাডোনা শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন। তাঁরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং একসঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছেন।’
অস্ট্রিয়া সম্পর্কে আলিস্তান বলেন, ‘আমি দল হিসেবে তাদের খুব বেশি চিনতাম না, তবে কিছু ভিডিও দেখেছি। তারা খুব শারীরিকভাবে শক্তিশালী দল, ভালো খেলোয়াড় আছে এবং উচ্চ-তীব্রতার ফুটবল খেলে। আমরা আমাদের শক্তি দিয়ে নিজেদের মতো করে খেলতে চাই। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা প্রেস করলে লং বল খেলব কি না বা আরও সরাসরি খেলব কি না। আশা করি ম্যাচটা ভালো হবে।’
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য নিয়ে আলিস্তার বলেন, ‘আমরা সেরাটাই চাই। বিশ্বকাপ শুরু হলে মানুষের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়, সেটা আমরা অনুভব করি। এই যাত্রাটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা প্রতিদিন উপভোগ করব, অনুশীলন করব, নিজেদের উন্নত করব, ধাপে ধাপে এগোব এবং আশা করি আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারব।’