নেইমারের প্রত্যাবর্তনের রাতে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতার পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তারকা ফরোয়ার্ডের প্রত্যাবর্তন নিয়েও। নেইমারের মতো তারকা ফুটবলারের ফেরাটা ব্রাজিলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ভিনিসিয়ুস।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। সেলেসাওদের জয়কে পাশ কাটিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নেইমার। প্রায় ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামেন তিনি। প্রথমার্ধে বেঞ্চে বসে থাকলেও বিরতির পর ১০ নম্বর জার্সিধারীকে বদলি হিসেবে নামান কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচ শেষে নেইমারের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘নেইমারকে নিয়ে বলতে গেলে, এটি আমাদের সবার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। কারণ আমাদের আদর্শ ফিরে এসেছে। তিনি এমন একজন, যিনি সবসময় লড়াই করেছেন এবং এখানে থাকার জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন। চোট কাটিয়ে তিনি আবার ফিরেছেন। আমি আশা করি তিনি আরও উন্নতি করবেন, নিজের ছন্দ ফিরে পাবেন এবং পুরো প্রতিযোগিতাজুড়ে আমাদের সাহায্য করবেন। সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ২ গোল করেন ভিনিসিয়ুস। চলমান বিশ্বকাপে তৃতীয়বার ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে নিজের বর্তমান ফর্ম নিয়েও সন্তুষ্ট এই ফরোয়ার্ড।
ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘ফুটবলে গোল করা এবং ভালো ম্যাচ খেলা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম তিন ম্যাচে আমি খুব ভালো করতে পেরেছি এবং জাতীয় দলে এই কয়েক বছরে যা শিখেছি, সেগুলোর সবকিছু আরও ভালোভাবে প্রয়োগ করতে পেরেছি। এমন সময়ও ছিল, যখন আমি নিজের সেরাটা দেখাতে পারিনি। তাই এমন মঞ্চে দুই গোল করা এবং ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না।’
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখা খেলোয়াড়দের তালিকায় উঠে এসেছেন ভিনিসিয়ুস। এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের পাঁচটি গোলে ভূমিকা রেখেছেন তিনি; নিজে তিনটি করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি। এই তালিকায় তাঁর সঙ্গে যৌথভাবে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং জার্মানির ডেনিজ উনদাভ।
এ ছাড়া চার গোল করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ভিনিসিয়ুস। তাঁর সমান গোল রয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আরলিং হালান্ডের। পাঁচ গোল নিয়ে সবার ওপরে মেসি।