ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন কার্লো আনচেলত্তি। তাঁর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগার শিরোপা জেতা এক রকম অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছিল। বায়ার্ন মিউনিখের হয়েও তাঁর শিরোপা জয়ের কীর্তি রয়েছে। ক্লাব ফুটবলের পাট চুকিয়ে গত বছর হয়েছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ। তবে বিশ্বকাপে সেলেসাওদের প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে থমকে গেলেন।
মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা সবশেষ ব্রাজিল জিতেছে ২০১৯ সালে। সেবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জিতেছিল কোপা আমেরিকার শিরোপা। এরপর থেকেই দলটি নিজেকে হারিয়ে খুঁজছে। ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকাতেও ব্যর্থ দলটি ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও ছিল না সেরা ছন্দে। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দলটি আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়র পর বাছাইপর্বের পঞ্চম স্থানে থেকে শেষ করে। তখন থেকেই বলা হচ্ছিল, ব্রাজিল এত দিনে তাদের সঠিক কোচ পেয়ে গেছে।
বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোরে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। আনচেলত্তি কেন ব্রাজিলের জন্য সঠিক কোচ—নিউজার্সির এই ম্যাচের আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না। এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার জন্য কঠিন।’
ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবশেষ শিরোপা ব্রাজিল জিতেছে ২০০২ সালে। হেক্সা মিশনের লক্ষ্যে নামা ব্রাজিল গত ২০ বছর ধরে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেই বারবার ধরা খাচ্ছে। সবশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর তিতে পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁর পদত্যাগের পর র্যামন মেনেজেস, ফার্নান্দো দিনিজ, দরিভাল জুনিয়র দায়িত্ব নিলেও কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। অবশেষে গত বছরের মে মাসে ব্রাজিল কোচের দায়িত্ব নিলেন আনচেলত্তি।
এক বছর ধরে ব্রাজিলের পরিবেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে আনচেলত্তি মানিয়ে নিচ্ছেন। এবার ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ সফল হতে যা যা করা দরকার, সেদিকেই মনোযোগ তাঁর। মরক্কো ম্যাচের আগে গত রাতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি খুব ভালো অনুভব করছি। এই অবস্থানে থেকে এই দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে খুবই আনন্দিত। এটি একটি অসাধারণ দেশ। আশা করি, দলের সাফল্যের জন্য যে কাজগুলো করা প্রয়োজন, আমি সেগুলো করতে পারব।’
ফুটবলারদের ফিটনেসের ব্যাপারে খুবই সচেতন আনচেলত্তি। চোটের সঙ্গে লড়তে থাকা নেইমারকে বিশ্বকাপে নিয়েছেন অনেক চিন্তাভাবনা করে। শুধু নেইমারই নন, কৌশলগত অনেক কিছু ভেবে বিশ্বকাপ দলটা দিয়েছেন আনচেলত্তি। যেখানে ডিফেন্ডার ওয়েসলি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলে মিডফিল্ডার এদেরসনকে নিয়েছেন ব্রাজিল কোচ।
ওয়েসলি বাদ পড়ার পর কেন এদেরসনকে নেওয়া হয়েছে—গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নের উত্তরে আনচেলত্তি বলেন, ‘কোনো খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দেওয়া আমার পছন্দ না। এটি খুবই দুঃখজনক। তবে এ ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। তার চোটটি বেশ গুরুতর ছিল এবং এই বিশ্বকাপ চলাকালীন সে সুস্থ হয়ে উঠতে পারত না। আমরা এদেরসনকে দলে নিয়েছি। কারণ, ২৬ জনের দল বাছাইয়ের সময় প্রশ্ন ছিল, আমরা ৮ জন নাকি ৯ জন ডিফেন্ডার নেব, আর ৬ জন মিডফিল্ডার নেব কি না। আমরা ৯ জন ডিফেন্ডার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে দানিলো এবং ইবানেজ ওই পজিশনে দারুণ করবে বলে মনে করি।’
আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রাজিল খেলেছে ১২ ম্যাচ। তাঁর অধীনে সেলেসাওরা জিতেছে ৭ ম্যাচ। ড্র করেছে ২ ম্যাচ। ৩ ম্যাচ হেরেছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপে আসার আগে জুন মাসে আন্তর্জাতিক বিরতিতে দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতেছে ব্রাজিল। ১৩ মাসে সেলেসাওদের কোচ হিসেবে নিজের মূল্যায়ন আনচেলত্তি করেছেন এভাবে, ‘একজন কোচের কাজই হলো বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। আপনাকে খেলোয়াড়দের বৈশিষ্ট্য, পরিবেশ, জাতীয় দলের সংস্কৃতি এবং দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। আমি দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার মতে এই বছরে যা করেছি, তা আমাদের এই বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দল হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।’