মোসাম্মৎ সাগরিকা গোল করলেন। একটি নয়, দুটি। ইতিহাসও হলো, বাংলাদেশও দেখতে থাকল জয়ের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পরে এমন দুস্বপ্নে রূপ কে ভেবেছিল? ১০ মিনিটের ঝড়ে ওলটপালট হয়ে গেল সবকিছু। স্বাগতিক থাইল্যান্ড শুধু ম্যাচেই ফেরেনি মাঠ ছেড়েছে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের শুরুটা হলো তাই হতাশা দিয়ে।
থাম্মাসাত স্টেডিয়ামে রেফারির বাঁশি বাজার পর থেকেই বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য দেখাতে থাকে থাইল্যান্ড। ঘরের মাঠ বলে কথা। ধারার বিপরীতে গিয়ে বাংলাদেশও কিছু আক্রমণের ঝলক দেখায়। স্বপ্না রানীর একটি শট থাই গোলরক্ষক আতিমা বুনপ্রাকানপাই ঠেকিয়ে দেন সহজেই। কিন্তু সাগরিকাকে পারেননি।
আনন্দের সেই উপলক্ষটি আসে ৩৬ মিনিটে। থাইল্যান্ডের ওপরে থাকা রক্ষণকে ভেদ করে মাঝমাঠ থেকে সাগরিকার উদ্দেশে চুলচেরা পাস বাড়ান মৌমিতা খাতুন। সেই পাস ধরে থাই গোলরক্ষককে সহজেই পরাস্ত করেন সাগরিকা।
গোল হজম করে থাইল্যান্ড যখন কিছুটা দিকভ্রান্ত, বাংলাদেশ তখন সেই সুযোগে নিজেদের গুছিয়ে নিতে মনোযোগ দেয়। প্রতিপক্ষের আক্রমণের তীব্রতা কমে আসায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সহজ হয় লাল-সবুজদের জন্য। বিরতির ঠিক আগে সাগরিকার উদ্দেশ্যে আবারও একটি লং পাস বাড়িয়েছিলেন সতীর্থরা। তবে এবার আর থাই রক্ষণকে ফাঁকি দিতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড; কড়া পাহারায় আটকে যায় বাংলাদেশের সেই আক্রমণ।
বিরতির পর বাংলাদেশের রক্ষণ আরও জমাট হলেও পাল্টা আক্রমণের সুযোগ নিতে ভুল করেনি। ৫০ মিনিটে উমেহলা মারমার থ্রু পাস ভেঙে দেয় থাইল্যান্ডের রক্ষণ। সাগরিকা বল পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে থাই গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে শট নেন জালে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে থাইল্যান্ড। বাংলাদেশের রক্ষণও নেমে আসে বেশ নিচে। ৬০ মিনিটে পিচাইয়াতিদার শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকান বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তার।
থাইল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ফেরার সুযোগটা এনে দেন সুরভী আক্তার আরফিন। ৬৮ মিনিটে বক্সের ভেতর তিনি নাচা কাইওয়ান্তাকে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় থাইল্যান্ড। স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি কুরিসারা লিমপাওয়ানিচ।
৭৫ মিনিটে আবার পেনাল্টি পায় থাইল্যান্ড। এবার ভুলটা করে বসেন নবীরণ খাতুন। বক্সের ভেতর পিচাইয়াতিদাকে ল্যাং মারেন তিনি। স্পটকিক থেকে গোল করেন থাই অধিনায়ক রিনইয়াফাত মুনদোং।
এরপর এগিয়ে যেতেও আর সময় বেশি লাগেনি থাইল্যান্ডের। ৭৯ মিনিটেই বাংলাদেশের হৃদয় ভাঙেন পিচাইয়াতিদা। সেই গোলের সূত্রপাত অধিনায়কত্ব হারানো আফঈদা খন্দকারের ভুল পাস থেকে।
বাকিটা সময় থাইল্যান্ডের আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয় বাংলাদেশকে। ‘এ’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে চীন। পরের ম্যাচে ৪ এপ্রিল চীনের বিপক্ষেই খেলতে হবে বাংলাদেশের।
তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপসহ তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দুই দল সুযোগ পাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। বাংলাদেশ আজ জিতলে সেই সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বলই হতো বৈকি।