বিশ্বকাপ সামনে রেখে ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছিলেন তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক। তবে কোনো ইরানি আবেদনকারীর ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তখন কিছু জানা যায়নি। এবার এই বিষয়টিও সামনে এনেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরু হবে। প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ২৩তম বিশ্বকাপ সামনে রেখে ইরানের প্রতিনিধি দলের ১৫ সদস্যকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদক তুরস্কের আন্তালিয়া শহর থেকে এ তথ্য জানান। বর্তমানে আন্তালিয়ায় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করছে ইরান।
জাতীয় দল ও কোচিং স্টাফের সদস্যদের জন্য ভিসা ইস্যু করা হলেও প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৫ সদস্যের ভিসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ওই প্রতিবেদক বলেন, ‘জাতীয় দল এবং টেকনিক্যাল স্টাফের সদস্যদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৫ সদস্যের ভিসা নিয়ে সমস্যা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভিসা ইস্যু করেনি।’
ইরানি প্রতিনিধি দলের ওই ১৫ সদস্য কেন ভিসা পাননি বা বিষয়টি সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে অতিরিক্ত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে ইরানের ভিসা ইস্যুতে তৈরি হওয়া জটিলতা থেকেই গেল।
সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ রয়েছেন কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে ভিসা না পাওয়া ইরান প্রতিনিধি দলের ওই ১৫ জন এই সংস্থার সঙ্গে জড়িত কি না সেটা বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির শুনানিতে রুবিও বলেছিলেন, ‘আমরা আগেও যেমন বলেছি, খেলোয়াড় কিংবা তাদের সহায়ক কর্মীদের নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমরা এটা হতে দেব না যে, তাদের প্রতিনিধি দলে এমন কিছু মানুষ যুক্ত হবে, যাদের খেলাধুলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং যাদের আইআরজিসির সঙ্গে বা এ ধরনের কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। আমরা বিষয়টি খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করব এবং ভবিষ্যতেও করে যাব। তবে অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হবে বলে আমি মনে করি না।’