বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে লিওনেল মেসিকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার ভক্তরা। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) আজ ভোরে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ম্যাচে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই তারকা ফরোয়ার্ড। এমন পরিস্থিতিতে মেসি বিশ্বকাপ খেলতে পারেন কি না সেটা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সে শঙ্কা উড়িয়ে মেসিকে নিয়ে স্বস্তির খবর দিল ইন্টার মায়ামি। ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হঠাৎ মাঠ ছাড়লেও আর্জেন্টাইন অধিনায়কের চোট নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন দলটির প্রধান কোচ গিয়ের্মো হোয়োস। ক্লান্তির কারণেই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মাঠ ছেড়েছেন বলে জানালেন তিনি।
নু স্টেডিয়ামে ১০ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ফিলাডেলফিয়াকে ৬-৪ গোলে হারিয়েছে মায়ামি। ম্যাচের ফলকে পাশ কাটিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে মেসির মাঠ থেকে উঠে যাওয়া। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে বাঁ উরুর পেছনের অংশে হাত দিয়ে বদলির ইঙ্গিত দেন মেসি। এরপর সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান তিনি। তখন ৪-৪ সমতায় দুই দল।
বিশ্বকাপ সামনে থাকায় মেসির মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির ও সমর্থকদের মধ্যে। তবে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোয়োসের কথায় স্বস্তি ফিরেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই যা চোটের ইঙ্গিত দেয়। সে সত্যিই ক্লান্ত ছিল, বিষয়টা শুধুই ক্লান্তির।’
সম্ভাব্য পেশির চোট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইন্টার মায়ামি কোচ আবারও একই ব্যাখ্যা দেন। তাঁর মতে, ম্যাচের ধকলের কারণেই মেসিকে তুলে নেওয়া হয়েছে, ‘মেসি ক্লান্ত ছিল, আর মাঠটাও ভারী ছিল। সন্দেহ থাকলে ঝুঁকি না নেওয়াই সবসময় ভালো।’
একই কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক গাস্তন এদুল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করায় সতর্কতার অংশ হিসেবে মাঠ ছেড়েছেন মেসি। পেশিতে কোনো চোট পাননি। তিনি কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি।’
ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল বিশ্বকাপের আগে মেসির শেষ ক্লাব ম্যাচ। এখন তিনি যোগ দেবেন আর্জেন্টিনা দলে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। তার আগে মেসির শারীরিক অবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ও দলের মেডিকেল স্টাফ।