প্রথমবার নারী এশিয়ান কাপে খেলা বাংলাদেশ একের পর এক গোল হজম করছে। চীনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারের পর আজ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হজম করেছে ৫ গোল। এখন পর্যন্ত একটা গোলও করতে পারেনি পিটার বাটলারের দল। তবু হতাশ নন বাটলার। বরং শিষ্যদের নিয়ে গর্ব অনুভব করছেন বাংলাদেশ কোচ।
সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে আজ প্রথম ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ-উত্তর কোরিয়া ম্যাচ গোলশূন্য অবস্থায় ছিল। কিন্তু প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ২ মিনিটের ব্যবধানে দ্রুত ২ গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে আরও ৩ গোল দেয় উত্তর কোরিয়া। ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেও হতাশ নন বাটলার। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, ‘আমি দুঃখিত বা হতাশ নই। আসলে এই মেয়েদের নিয়ে গর্বিত। অবশ্যই হতাশ নই।’
মেয়েদের ফুটবলের র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ অবস্থান করছে ১১২ নম্বরে। মঙ্গলবার যে চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা-মারিয়া মান্দারা, তারা র্যাঙ্কিংয়ে ১৭ নম্বরে। সেখানে উত্তর কোরিয়া অবস্থান করছে ৯ নম্বরে। বড় ব্যবধানে হারার পরও বাটলার মনে করেন, শিষ্যরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আচ্ছা, আপনি কি কখনো প্রতিপক্ষ দলের কথা ভেবেছেন যাদের বিরুদ্ধে আমরা খেলেছি? ৩০ মিনিট পর তো ৩, ৪ বা ৫ গোলও হয়ে যেতে পারত। আমি বিশ্বাস করি মেয়েরা তাদের সবটুকু দিয়েছে। আমরা কেবল যথেষ্ট ভালো ছিলাম না। পজেশনে আমরা ভালো ছিলাম না। পজেশন ছাড়াও আমরা যথেষ্ট পরিশ্রম করিনি।’
বাংলাদেশ-উত্তর কোরিয়া ম্যাচ শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায়। সিডনিতে তখন বেলা ১টা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিডনির তাপমাত্রা বেড়েছে। তপ্ত বিকেলে বাংলাদেশের গোলপোস্টের সামনে মিলি যেভাবে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তা এক কথায় অসাধারণ। প্রতিপক্ষের নিশ্চিত ৫ গোল প্রতিহত করেছেন। বাটলার বলেন, ‘আবহাওয়া একটি প্রভাব ফেলে থাকতে পারে, তবে আমি সেটাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চাই না কারণ তা উভয় দলের জন্যই সমান ছিল। আমার মূল কথা হলো, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার মতো শীর্ষ মানের দলের বিপক্ষে খেললে আপনি গোল খাবেনই।’
একাদশে বাটলারের চমক দেখানো নতুন কিছু নয়। রুপনা চাকমার পরিবর্তে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচেই মিলিকে গোলরক্ষক হিসেবে খেলিয়েছেন। চীনের বিপক্ষেও মিলি আট সেভ দিয়েছিলেন। গোলরক্ষক মিলির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল মনে করছেন বাটলার। আজ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘মিলি একজন সত্যিকারের ব্যক্তিত্ব এবং সে একজন সৈনিক। তার পটভূমি বিবেচনা করলে জীবনের প্রতি তার জেদ এবং উদ্দীপনার প্রশংসা আপনাকে করতেই হবে। তার সঙ্গে কাজ করা দারুণ। সে এই সুযোগটি পাওয়ার যোগ্য এবং মেয়েটির জন্য আমার কেবল প্রশংসাই আছে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে আজ উত্তর কোরিয়ার হয়ে জোড়া গোল করেছেন কিম কিয়ং ইয়ং। একটি করে গোল করেছেন মিওন ইউ জং, চে উন ইয়ং ও কিম হাই ইয়ং। যাঁদের মধ্যে ৪৫ মিনিটে মিওন ইউ জং পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন।