লিওনেল মেসি কি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন নাকি অবসর নেবেন—এই প্রশ্নই এখন ভক্তদের মুখে মুখে। এই প্রসঙ্গে মনগড়া কথা না বলে খোদ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারের ওপরই সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া।
২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার মাটিতে সবশেষ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করেছেন মেসি। আপতত অবসর নিয়ে আলোচনা না করে দশ নম্বর জার্সিধারীকে খেলা উপভোগ করতে দেওয়ার পরামর্শ দিলেন তাপিয়া।
প্রেসিওন আলতা অনুষ্ঠানে তাপিয়া বলেন, ‘এটা (অবসর নেওয়া বা খেলা চালিয়ে যাওয়া) পুরোপুরি তার (মেসি) ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমাদের তাঁকে একা থাকতে দিতে হবে। ২০২২ সালে আমরা জানতাম না, সে ২০২৬ সালে খেলবে কি না। সে বলেছিল, এক ম্যাচ করে এগোতে চায়। আর আমার মনে হয়, আমরা বিশ্বকাপে লিওর দারুণ একটি সংস্করণ দেখেছি, যদি সেরা না-ও হয়। তাঁকে ফুটবল খেলা উপভোগ করে যেতে দিতে হবে। এরপর তাঁকে নিজের জন্য যে সিদ্ধান্তটা সঠিক মনে হয়, সেটাই নিতে দিতে হবে।’
২০২৬ বিশ্বকাপে আট গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। স্পেনের কাছে ফাইনালে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করলেও পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান শক্তি ছিলেন তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতেও অবদান রাখেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
মেসির বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সে মুগ্ধ তাপিয়া বলেন, ‘লিওর জন্য এটা দারুণ একটি বিশ্বকাপ ছিল। আমরা অনেক উপভোগ করেছি এবং আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। নিঃসন্দেহে, বিশ্বকাপে এই দলের পথপ্রদর্শক ছিল সে। বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে, আমার কাছে সে-ই ছিল সেরা খেলোয়াড়। ম্যাচের পর ম্যাচ সে রেকর্ড ভেঙেছে।’
বিশ্বকাপে মেসির সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন তাপিয়া। বিশেষ করে প্রতিটি ম্যাচের পর অধিনায়কের সঙ্গে আলিঙ্গনের মুহূর্তগুলো তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে থাকবে বলে জানান এএফএ সভাপতি।
তাপিয়া বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচের পরের আলিঙ্গনগুলো আমি সযত্নে মনে রাখব। ম্যাচের পর আমরা যখন একে অপরের সঙ্গে দেখা করতাম, সেটাই ছিল সেই মুহূর্ত। আমি সেই স্মৃতি, আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্পর্কটা ধরে রাখব।’