বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একটি স্মরণীয় দিন উপহার দিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ১৬ গোল নিয়ে এখন দুজনই রয়েছেন যৌথভাবে শীর্ষে।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকটি বিশ্বকাপে মেসির প্রথম। এই হ্যাটট্রিকে রেকর্ডের পাতায় ঝড় তুলেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। এমন স্মরণীয় এক ম্যাচের পর বিশ্বের প্রধান ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমগুলোতে চলছে মেসি বন্দনা। ৩৯ ছুঁইছুই বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন ফর্ম ধরে রাখা মেসির পারফরম্যান্সকে অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমই ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইউরোপে গভীর রাতে ম্যাচ শেষ হলেও বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ক্রীড়া ওয়েবসাইটগুলোতে প্রধান শিরোনাম হয়ে ওঠেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
শিরোনামে স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক এএস লিখেছে, ‘ঐতিহাসিক মেসি!’ আরেক শীর্ষ ক্রীড়া পত্রিকা মার্কা লিখেছে, ‘মেসির হ্যাটট্রিক...আর ফুটবল ইতিহাস।’ মুন্দো দেপোর্তিভোর শিরোনামও ছিল অনেকটা একই সুরে, ‘আর্জেন্টিনাকে আলোকিত করলেন মেসি, গড়লেন ইতিহাস।’
ইতালির বিখ্যাত ক্রীড়া দৈনিক লা গাজেত্তা দেলো স্পোর্ত আরও বিস্তারিতভাবে মেসির অর্জনকে তুলে ধরে লিখেছে, ‘মেসি ইতিহাস গড়লেন! আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় ক্লোসেকে স্পর্শ।’
বর্তমান প্রজন্মের দুই আলোচিত তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আরলিং হালান্ডের প্রসঙ্গও এসেছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে। স্পোর্ত তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘হ্যাটট্রিক করে এমবাপ্পে ও হালান্ডকে জবাব দিলেন মেসি, আলজেরিয়াকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা।’
ফ্রান্সের প্রভাবশালী ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ একই দিনে ফ্রান্সের হয়ে এমবাপ্পের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স নিয়েও সরব ছিল। তবে তাতেও মেসির কৃতিত্ব আড়াল হয়নি। পত্রিকাটি শিরোনাম দেয়, ‘এক, দুই, তিন...দীর্ঘজীবী হোন লিও মেসি!’ ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমেও ছিল মেসি-জ্বর। দেশটির শীর্ষ সংবাদপত্র ও গ্লোবোর ক্রীড়া ওয়েবসাইট জিই খুব সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ শিরোনাম বেছে নেয়, ‘মেসি, মেসি, মেসি।’
মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম রেকর্ড আরও আবেগঘন ভাষায় মেসির পারফরম্যান্স তুলে ধরে লিখেছে, ‘মেসি এতটাই মেসি যে অন্য কিছু আর গুরুত্ব পায় না।’