কাতার বিশ্বকাপের আগে হুলিয়ান আলভারেসকে চিনতেন না অনেকেই। দলে তাঁর জায়গাও পাকা ছিল না। লাউতারো মার্তিনেস তখন আর্জেন্টিনার এক নম্বর স্ট্রাইকার, আলভারেস শুধুই বিকল্প। কিন্তু সুযোগ পেলে কী করতে হয়, সেটা তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন।
পোল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে গোল করলেন। এরপর আর থামেননি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে একাই করলেন দুই গোল। পুরো টুর্নামেন্টে চার গোল করে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ে রাখলেন বড় ভূমিকা। সেই আলভারেস এখন আত্লেতিকো মাদ্রিদের বড় তারকা, আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশের নিয়মিত খেলোয়াড়।
সামনে ঘনিয়ে আসছে আরেকটি বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনার লক্ষ্য এবার শিরোপা ধরে রাখা। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলভারেস বলেন, ‘একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে রোমাঞ্চটা সবসময় থাকে এবং আমরা সবসময় চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। এবার আলাদা (লক্ষ্য) হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা ফাইনালে পৌঁছাতে চাই। আমরা জানি এটা সহজ হবে না; অনেক কষ্ট করতে হবে এবং সূক্ষ্ম ব্যবধানে ফলাফল নির্ধারিত হতে পারে, কিন্তু আমরা যতটা সম্ভব প্রস্তুত থাকব এবং ধাপে ধাপে এগিয়ে যাব।’
কাতারের কথা মনে করতে বললে আলভারেসের মাথায় প্রথমে আসে মেক্সিকো ম্যাচের কথা। সৌদি আরবের কাছে হারের পর সেই ম্যাচটা ছিল আর্জেন্টিনার জন্য এক ধরনের বাঁচা-মরার লড়াই। তিনি বলেন, ‘আমি বলব মেক্সিকো ম্যাচের কথা। আমার মনে হয় এটাই টার্নিং পয়েন্ট ছিল— কারণ এর আগে যা ঘটেছিল এবং এরপর যা হয়েছিল, সব মিলিয়ে এটি ছিল সত্যিকারের মোড়বদলের মুহূর্ত। সেই মুহূর্ত থেকে সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যায় এবং আমরা জানতাম ভাগ্য আমাদের নিজেদের হাতে।’
কাতার বিশ্বকাপের পর আলভারেস আরও পরিপক্ব হয়েছেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে ফুটবলের প্রায় সব বড় ট্রফিই এখন তাঁর ঘরে। নিজেকে বদলানোর কথা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলব না যে ২০২২ সালের পর থেকে আমার খেলার ধরন অনেক বদলেছে, তবে আমি কিছু নতুন ধারণা শিখেছি এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি করেছি। গত কয়েক বছরে অনেক ম্যাচ খেলার কারণে আমার এখন বেশি অভিজ্ঞতা আছে। সর্বোপরি, এই জার্সি পরলে আপনি অতিরিক্ত একটা অনুপ্রেরণা পান এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গেে আপনি উন্নত হন, এমনকি যদি নিজে টেরও না পান।’
দলে তাঁর সঙ্গে আছেন লাউতারো মার্তিনেসও। ইন্টার মিলানে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো লাউতারো এখনো দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুজনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সম্পর্কটা বন্ধুত্বেরই। আলভারেস বললেন, ‘আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু একসঙ্গে খেলতেও ভালো লাগে। সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকলে দুজনেই ভালো করি। এটাই আসল কথা।’
এই বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির দিকেও থাকবে সবার চোখ। বয়সের কারণে অনেকেই মনে করছেন এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। মেসিকে নিয়ে আলভারেস বলেন, ‘আমরা সবাই পুরোপুরি জানি যে বয়সের কারণে এটি লিওর শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত এটা তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। এটা নিশ্চিতভাবেই বিশেষ বিশ্বকাপ হবে — শুধু আমাদের জন্য নয়, তাঁর সতীর্থদের এবং আর্জেন্টাইন জনগণের জন্যও, বরং তাঁকে অনুসরণ করা প্রতিটি দর্শকের জন্যও, কারণ তিনি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়।’
শিরোপা ধরে রাখতে পারলে এই আর্জেন্টিনা দল ইতিহাসে অমর হয়ে যাবে, এমনটাই মনে করেন আলভারেস। তিনি বললেন, ‘যদি আমরা বিশ্বকাপ ধরে রাখি, এটি ইতিহাসে লেখা থাকবে। কারণ আমরা পরপর দুবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হব, পাশাপাশি দুবার কোপা আমেরিকাও জিতব। গত কয়েক বছর আমাদের দেশের জন্য একটি সোনালি যুগ ছিল, তাই আমরা আশা করি এই অবিশ্বাস্য মুহূর্তগুলো আরও উপভোগ করতে পারব, যা আমাদের সকলকে এত খুশি করে।"