রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের তৃতীয় দিন দুই দল মিলে হারিয়েছে ১০ উইকেট। এর মধ্যে চারটা পাকিস্তানের। দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ২ উইকেট কম হারালেও বিপদে আছে স্বাগতিক দল। শেষ বিকেলে অফস্পিনার সাইমন হারমানের ঘূর্ণিতে স্বস্তিতে নেই শান মাসুদের দল।
পাকিস্তানের করা ৩৩৩ রানের জবাবে ৪০৪ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা। এদিন ৩৫ ওভার ব্যাট করেছে তারা। শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। দলীয় ১২ রানে ফেরেন ইমাম উল হক। ৯ রান করা এই ওপেনারকে এলবিডব্লু করেন হারমার। ১৬ রানে জোড়া ধাক্কায় খায় পাকিস্তান। রানের খাতা না খোলা মাসুদকেও একইভাবে আউট করেন এই স্পিনার। ৬ রান করা আব্দুল্লাহ শফিককে ফেরান কাগিসো রাবাদা।
বিপদ সামাল দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন বাবর আজম ও সৌদ শাকিল। দলীয় ৬০ রানে ১১ রান করে শাকিল ফিরে গেলে চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে দিনের বাকি অংশ নির্বিঘ্নে পার করে দেন বাবর। তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৯৪ রান। ২৩ রানের লিড পেয়েছে তারা। বাবর ৪৯ ও রিজওয়ান ১৬ রান নিয়ে চতুর্থ দিন ব্যাট করতে নামবেন।
বাকি ৬ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে স্কোরবোর্ড ভারী করতে না পারলে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে পাকিস্তানের ভাগ্যে খারাপ কিছুই যে আছে তা বলা বাহুল্য। স্বাগতিকদের পতন হওয়া ৪ উইকেটের মধ্যে তিনটাই নিয়েছেন হারমার। ১৩ ওভার তাঁর খরচ ২৬ রান।
প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা লিড নিতে পেরেছে মূলত সেনুরান মুথুসামি ও কাগিসো রাবাদার ব্যাটিং দৃঢ়তায়। দশম উইকেটে ৯৮ রান করেন দুজন। ৭১ রান করে রাবাদার বিদায়ে এই জুটি ভাঙে। দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট ইতিহাসে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে এর চেয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি আর কেউ। রেকর্ড গড়ার পর রাবাদা আউট হওয়ায় ৮৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠে ছাড়েন মুথুসামি।
৭৯ রানে ৬ উইকেট নেন অভিষিক্ত আসিফ আফ্রিদি। পাকিস্তানের টেস্ট জার্সি গায়ে জড়ানোর সময় তাঁর বয়স ছিল ৩৮ বছর ২৯৯ দিন। টেস্টের সুদীর্ঘ ১৪৮ বছরের ইতিহাসে এত বেশি বয়সে অভিষেকে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি আর কেউ।