মিরপুরে পরশু বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্রেফ উড়ে গেছে পাকিস্তান। দুই ইনিংস মিলে সেদিন এক ইনিংসের সমানও খেলা হয়নি। বাজে হারে সিরিজ শুরু করা পাকিস্তানের কাছে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ ‘বাঁচা-মরা’র লড়াই। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া পাকিস্তান কতটা ভয়ংকর, সেটাই এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বাংলাদেশ।
প্রথম ওয়ানডের মতো আজ দ্বিতীয় ম্যাচেও টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের দিনের চেয়ে আজকের উইকেটে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। মিরাজ টসের সময় বলেছেন, ‘উইকেট ভালো দেখা যাচ্ছে। ঘাস রয়েছে।’ এবার আগে ব্যাটিং পেয়ে ওভারপ্রতি ৮ বা তার বেশি রানরেটে ব্যাটিং করতে থাকে পাকিস্তান। তবে বাজে বোলিংয়ের পর এবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৮ ওভারে ২ উইকেটে ১২১ রান করেছে সফরকারীরা।
আগে ব্যাটিং পেয়ে আজ শুরু থেকেই ঝড় তুলতে থাকে পাকিস্তান। কোনো উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে (১০ ওভার) ৮৫ রান করেছে সফরকারীরা। সাহিবজাদা ফারহানকে একপ্রান্তে দর্শক বানিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের তুলোধুনো করতে থাকেন মাজ সাদাকাত। যদিও পাওয়ার প্লের মধ্যেই আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে দুইবার করে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। দলীয় ৪৯ রানের সময় পাকিস্তানের প্রথম উইকেট পড়ে গিয়েছিল। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে ফারহানের বিপক্ষে নাহিদ রানা এলবিডব্লিউর আবেদন করলে আম্পায়ার আঙুল তুলে নেন। ফারহান তৎক্ষণাৎ রিভিউ নিলে দেখা যায়, বল স্টাম্প মিস করেছে। পাকিস্তানি এই ওপেনারের রান তখন ৮।
ফারহান বেঁচে যাওয়ার ঠিক পরের ওভারে রিভিউ করে বাংলাদেশ। অষ্টম ওভারের প্রথম বলে তাসকিন আহমেদের শর্ট বলে কাট করতে গিয়েও পারেননি সাদাকাত। জোরালো আপিলের পরও আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় উইকেটরক্ষক লিটন দাস সতীর্থদের বোঝাতে চেয়েছেন, বল হয়তো ব্যাট ছুঁয়ে চলে গেছে। কিন্তু আলট্রাএজে দেখার পর মিরাজের রিভিউ নষ্ট হয়। পাকিস্তানের স্কোর তখন ৫১ এবং সাদাকাত করেছিলেন ৪১ রান।
উদ্বোধনী জুটিতে ফারহান-সাদাকাত ৭৯ বলে ১০৩ রান যোগ করেন। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সাদাকাত সেঞ্চুরির আভাস দিলেও তা সম্ভব হয়নি। ৪৬ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৫ রান করেন তিনি। ১৩তম ওভারের শেষ বলে সাদাকাতকে ফেরান মিরাজ। উইকেটের পেছনে সহজ ক্যাচ ধরেন লিটন।
পাকিস্তানের আরেক ওপেনার ফারহানও দ্রুত বিদায় নিয়েছেন। ১৮তম ওভারের চতুর্থ বলে তাসকিনের অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বল লেগ সাইডে ঘোরাতে যান ফারহান। টপ এজ হওয়া বল শর্ট থার্ড ম্যানে সহজে তালুবন্দী করেছেন তাওহীদ হৃদয়। ৪৬ বলে ২ চারে করেছেন ৩১ রান। দুই ওপেনারকে হারানোর পর ব্যাটিংয়ে নামেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুই বল খেলে এখনো রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। আরেক ব্যাটার শামাইল ১৫ বলে ৬ রানে ব্যাটিং করছেন।