টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগের পাঁচবারের দেখায় পাঁচবারই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে নকআউট পর্বে যে প্রোটিয়ারা চোকার্স, সেটা আজ ফের প্রমাণ হলো কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারাল নিউজিল্যান্ড। ১৯ বছরের চেষ্টায় অধরা জয়ে ফাইনালের টিকিট কাটল কিউইরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় একটা পর্যায়ে নিশ্চিতই করে ফেলেছিল নিউজিল্যান্ড। ফিন অ্যালেন সেঞ্চুরি পান কি না, সেটাই ছিল দেখার অপেক্ষা। ৮ ওভারে যখন ২১ রান দরকার, তখন মার্কো ইয়ানসেনের প্রথম চার বলে দুটি করে চার ও ছক্কা মেরে অ্যালেন স্কোর সমতা করে ফেলেন। অ্যালেনের রান তখন ৯৬। ইয়ানসেনকে মিড অফ দিয়ে চার মেরে ‘এক ঢিলে দুই পাখি' মারলেন অ্যালেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিটা করলেন ৩৩ বলে। ৪৩ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটের বিশাল জয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এখন কিউইরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে একটুও বেগ পেতে হয়নি কিউইদের। প্রথম পাঁচ ও দশ ওভারে যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ৪৫/২, ৭৭/৪, সেখানে ব্যাটে আগুনের হলকা ছুটিয়ে নিউজিল্যান্ড তোলে ৬২/০ ও ১২৩/১। এই ধারাতেই রান তুলে ম্যাচ শেষ করেছে নিউজিল্যান্ড।
৩৩ বলে ৫৮ রান তুলে আউট হন সেইফার্ট, তখন নিউজিল্যান্ডের রান ১১৭। এই রান করতে মাত্র ৫৫ বল খেলেন সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন। সতীর্থের চেয়েও বেশি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন তিনি। ৭টি চার ও ২টি ছয়ে সাজানো তাঁর ইনিংসটির স্টাইকরেট যেখানে ১৭৫.৭৫, সেখানে ফিন অ্যালেন ব্যাট করেছেন ৩০৩.০৩ স্ট্রাইকরেটে। ফিফটি ছুঁয়েছেন মাত্র ১৯ বলে! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটাই দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। আগের দ্রুততম ২০ বলের ফিফটি ছিল যুবরাজের।
দ্রুততম ফিফটি করা অ্যালেন বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েছেন। রানের তিন অঙ্ক ছুঁতে খেলেছেন মাত্র ৩৩ বল। বিশ্বকাপের আগের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ছিল ক্রিস গেইলের। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন গেইল।
১০টি চার ও ৮টি ছয়ে অপরাজিত ১০০ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়েন ফিন। উইকেটে তাঁর অপরাজিত সঙ্গী রাচিন রবীন্দ্রর রান ১১ বলে ১৩। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত-ইংল্যান্ডের ম্যাচ বিজয়ীর সঙ্গে খেলবে নিউজিল্যান্ড। রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে হবে ফাইনাল।