বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) হবে জনগণের, এটা কোনো গ্রুপের না—এমন মন্তব্য করেছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য এবং বর্তমানে ফিন্যান্স কমিটির প্রধান ইসরাফিল খসরু। বিসিবির চার-ছক্কা পডকাস্টে এই মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আমিনুল হক বুলবুলের বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর বিসিবি পরিচালনার দায়িত্বে আছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। আগামী ৭ জুন বিসিবির নির্বাচন হবে। এরপর নির্বাচিত বোর্ডের ২৫ পরিচালক নিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করা হবে। ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর বিসিবিতে কয়েক দফা পরিবর্তন এসেছে; হয়েছে অনেক আলোচনা-সমালোচনা। বিসিবির এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশের ক্রিকেটেও। অস্থিরতা মোকাবেলায় তামিমের অ্যাডহক কমিটি কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটা নিয়েও হচ্ছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিসিবি এবং দেশের ক্রিকেটের নানা বিষয় নিয়ে এবার নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ইসরাফিল।
পডকাস্টে ইসরাফিল বলেন, ‘(স্থিরতা) আসছে কিনা বলা কঠিন তবে আসা দরকার। ক্রিকেট বোর্ডের কাজ কিন্তু খুবই সহজ, প্লেয়ারদেরকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া। সাথে অবকাঠামো ঠিক করে দেওয়া, সাপোর্টটা দেওয়া। এই নীতি যদি ঠিক থাকলে তাহলে ক্রিকেট বোর্ড হবে জনগণের ক্রিকেট বোর্ড। দিনশেষে ক্রিকেট বোর্ড তো কোনো গ্রুপের না। বাংলাদেশের ক্রিকেটটা জনগণের। সবাই ক্রিকেটকে ভালোবাসে, এটা আমাদের ডিএনএতে আছে।’
সবার আগে ক্রিকেটকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে চান ইসরাফিল। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ স্থিরতা আসা দরকার, পলিসি থাকা দরকার। ক্রিকেটারদের কাছে যেন যথার্থ সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামো থাকে। আমাদের যাত্রাটা অনেক লম্বা, তবে অই তুলনায় কি আমাদের ট্রেনিং অবকাঠামোগুলো উন্নত করতে পেরেছি? না পারিনি। ফলে আমরা এটা মেনে নিয়ে সামনে আগাতে চাই। আমাদের আরও ভালো অবকাঠামো দরকার, একাডেমি দরকার। সঙ্গে খেলা মাঠে গড়াতে হবে। অনেক জায়গায় অনেক বছর ধরে লিগ হচ্ছে না। যদি খেলাই না হয় প্লেয়ার আসবে কোথা থেকে, পাইপলাইন আসবে কোথা থেকে? খেলা হতে হবে, বিভাগীয় ক্রিকেট, লিগগুলো হতে হবে। খেলার জন্য আবার মাঠও লাগবে। বিসিবির একটা বড় দায়িত্ব মাঠগুলো, সুযোগ-সুবিধাগুলো উন্নত করা যেন খেলা হতে পারে। এগুলো সব একটা আরেকটার সঙ্গে জড়িত।’
যেকোনো জটিলতায় ক্রিকেটারদের পাশে থাকতে চান ইসরাফিল, ‘আমরা আসার পর বিপিএলের অনেক বকেয়া ছিল। আমরা নিজেরা অ্যাকশন নিয়ে এগুলো ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেছি। যে না, দিতে হবে প্লেয়ারদের। প্লেয়ারদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সামনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের যেটা ভাগ, যেটা দরকার তা দিতে হবে। প্লেয়াররা যখন দেখছে বোর্ড সাপোর্ট করছে, তারা আরও অনুপ্রাণিত হচ্ছে। আমার কাজ আমি পারফর্ম করব, আমি ফুল সাপোর্ট পাচ্ছি। তাদের আর কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হয় না, তারা কেবল পারফর্ম করে যাবে। তাদের অন্য কোনো চিন্তা নেই। আমাদের কাজ হচ্ছে প্রোভাইড করা। কোনো ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলে আমাদের এসে বলবে, যে এটা লাগবে। আমাদের গিয়ে বোঝা উচিত (তাদের কী লাগবে)। কী সমস্যা হচ্ছে, চেষ্টা করবে সেগুলো সমাধান করা।’