আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের মুহূর্তটি জশুয়া বিশপের কাছে ছিল স্বপ্নপূরণের মতো। তাও যদি সেই ম্যাচে আসে জয়, তাহলে সেটা স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে থাকার মতো। বিশপের সঙ্গেও ঠিক তা-ই হয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে তাঁর দল মাঠ ছেড়েছে জয় নিয়ে।
অভিষেক ম্যাচটাও বিশপের হয়েছে মনে রাখার মতো। বাঁহাতের ঘূর্ণিতে পেয়েছেন ২ উইকেট। যাঁর মধ্যে একটা সেঞ্চুরিয়ান (১০৫) সাদমান ইসলামের উইকেট। পেয়েছেন তাওহীদ হৃদয়ের উইকেট। তবে একাদশে যে সুযোগ পাবেন, সেটা আগেই জেনে গিয়েছিলেন বিশপ। আজ ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লুআই) এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘ড্যারেন সামি ড্রেসিংরুমে এসে আমাকে জানালেন, ম্যাচ শুরুর আগে আমি একাদশে আছি। মুহূর্তটি আমার জন্য দারুণ অত্যন্ত আবেগের ছিল। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল একদিন দেশের হয়ে খেলব। সেই স্বপ্ন পূরণ করে টেস্ট অভিষেক হওয়া আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।’
অভিষেকের আগে সতীর্থ কেমার রোচের কাছ থেকে টেস্ট অভিষেকের টুপি পাওয়ার মুহূর্তটিও বিশেষভাবে মনে রেখেছেন বিশপ। খেমারকে বড় ভাইয়ের মতো মনে করেন তিনি। তাই তাঁর হাত থেকে ক্যাপ পাওয়াটা ছিল বাড়তি আবেগের। বিশপ বলেন, ‘কেমারের কাছ থেকে ক্যাপ পাওয়া আমার জন্য দারুণ ব্যাপার ছিল। কেমার আমার কাছে বড় ভাইয়ের মতো। তাঁর কাছ থেকে ক্যাপ পাওয়াটা আমার জন্য অনেক অর্থবহ।’
অভিষেক টেস্টে প্রথম উইকেট পেতেও কিছুটা অপেক্ষা করতে হয়েছিল বিশপকে। প্রায় ২০ ওভার বোলিংয়ের পর প্রথম টেস্ট উইকেটের দেখা পান তিনি। তবে সেই অপেক্ষার পর উইকেট পাওয়ার অনুভূতিকে দারুণ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। ক্যারিবীয় বাঁহাতি স্পিনার বলেন, ‘অবশ্যই প্রথম উইকেটের জন্য একটু বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে। মনে হয় প্রায় কুড়ি ওভার বল করার পর প্রথম টেস্ট উইকেট পেয়েছি। তবে অনুভূতিটা সত্যিই চমৎকার। প্রথম বল করার সময় একটু নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু একবার থিতু হওয়ার পর সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যায়।’
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পরশু শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট। প্রথম ম্যাচের জয় ধরে রেখে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করাই এখন উইন্ডিজের লক্ষ্য। সাত টেস্টে তিন জয়, তিন হার ও এক ড্রয়ে ৪৭.৬২ শতাংশ সফলতার হার পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ২০২৫-২৭ টেস্ট পঞ্চম স্থানে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৭২.২২ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে সবার ওপরে নিউজিল্যান্ড। দুইয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সফলতার হার ৭১.৪৩ শতাংশ।