মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-মুশফিকুর রহিমদের অবসরের পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার অনেকটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বেশির ভাগ সময়ই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। তাওহীদ হৃদয় যেন এই নাজুক মিডল অর্ডারের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার এবার সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালের মতো কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলেছেন।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর আলোচনায় হৃদয়। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে তাঁকে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। নিছক মজা করে বলা ঠিকই। তবে যদি পরিসংখ্যান দেখা যায়, তাহলে অনেকের কপালে চোখ উঠে যাবে। এ বছর তাঁর ওয়ানডেতে গড় ৯৭। পাঁচ ইনিংস ব্যাটিং করে ১৯৪ রান করেছেন। যার মধ্যে তিনটিতেই ছিলেন অপরাজিত।
এ বছরের ৯৭ গড় হৃদয়কে পৌঁছে দিয়েছে অন্য এক উচ্চতায়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ছিল এই সংস্করণে তাঁর ৫০তম ম্যাচ। কমপক্ষে ৫০ ওয়ানডে খেলা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে গড়ের দিক থেকে সবার ওপরে হৃদয়। বর্তমানে ওয়ানডেতে তাঁর গড় ৩৭.৪১। ৩৭.২৯ ও ৩৬.৬৫ গড় নিয়ে এই তালিকায় দুই ও তিনে সাকিব ও তামিম। সাকিব ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেননি। তামিম বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি।
পঞ্চপাণ্ডবদের আরেক দুই তারকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিমদের অবস্থান সাকিব-তামিমেরও পেছনে। মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের গড় ৩৬.৪৬ ও ৩৬.৪২। গত বছর সামাজিক মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। আর মুশফিক ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও খেলছেন টেস্ট।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৭৪ ওয়ানডে খেলার রেকর্ড মুশফিকের। এখন পর্যন্ত পাঁচ বাংলাদেশি ২০০ বা তার বেশি ওয়ানডে খেলেছেন। সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহ এবং মাশরাফি বিন মর্তুজা সাদা বলের এই সংস্করণে ২৪৭, ২৪৩, ২৩৯ ও ২১৮ ম্যাচ খেলেছেন।
গড়ের দিক থেকে সেরা হলেও হৃদয়ের ব্যাটিং বর্তমান ক্রিকেটের সঙ্গে আশানুরূপ নয়। তিন বছরের ক্যারিয়ারে ৫০ ওয়ানডে খেলে ১ সেঞ্চুরি ও ১২ ফিফটি করেছেন। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করলেও তা কোনো কাজে আসেনি। তা ছাড়া তাঁর স্ট্রাইকরেট ৭৯.৭৭। বেশির ভাগ সময় লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে রান বের করতে পারেন না। ডট বল কমিয়ে যত বেশি স্ট্রাইক রোটেট করতে পারবেন, তাতে উপকার হবে বাংলাদেশেরই।