চোখেমুখে এখনো কৈশোরের ছাপ কাটেনি দুনিথ ওয়াল্লালাগের। উইকেট পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কান স্পিনারের উচ্ছ্বসিত হাসিতেও পাওয়া যায় কৈশোরিক অভিব্যক্তি। কিন্তু তাতে এই উদীয়মান তারকার কী আসে যায়! নিজের কাজটা যদি ঠিকঠাক মতো করতে পারেন তাহলে তো কোনো কথাই নেই।
আর সেটাই করে দেখাচ্ছেন ওয়াল্লালাগে। তাঁর অবয়বে কৈশোরের ছাপ থাকলেও মননে-মগজে খুবই পরিপক্বতার পরিচয় দিচ্ছেন। আর বাঁহাতে ছাড়ছেন ব্যাটারদের মারণঘাতী বল। সেই মায়াবি স্পিনেই গতকাল কুপোকাত করেছেন ভারতীয় ব্যাটারদের। রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলির মতো ব্যাটারদের গতকাল মাটিতে নামিয়েছেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং করেছেন। ৪০ রানে নিয়েছেন ৫ উইকটে। সঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্যারিয়ারে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন ২০ বছর বয়সী এই স্পিনার।
এশিয়া কাপের এই বোলিং ফিগারে একটি রেকর্ডও গড়েছেন ওয়াল্লালাগে। শ্রীলঙ্কার সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ২১ বছর ৬৫ দিনে চরিথ বুদ্ধিকার করা কীর্তি ২০ বছর ২৪৬ দিন বয়সে ভেঙে দিয়েছেন। শুধু এমন নজরকাড়া বোলিং করেই থামেননি। পরে ব্যাটিংয়েও দুর্দান্ত ৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন ,যদিও তাঁর এমন পারফরম্যান্স দলের হার এড়াতে পারেনি।
শৈশব থেকেই অবশ্য এমন প্রশংসা পেয়ে আসছেন ওয়াল্লালাগে। তাঁর ধমনিতেই যে বয়ে যাচ্ছে ক্রিকেটীয় রক্ত। বাবা সুরাঙ্গা ওয়াল্লালাগে ছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রিন্স অফ ওয়েলস দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। বয়সভিত্তিক দলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে নেতৃত্ব দেন দুনিথ ওয়াল্লালাগে। নেতৃত্বের সঙ্গে দলের হয়ে সেরা পারফর্মারও ছিলেন তিনি।
সর্বশেষ অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন ওয়াল্লেলাগে। ৬ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট। সঙ্গে ব্যাট হাতেও ছিলেন দুরন্ত ছন্দে। সমান ম্যাচে ২৬৪ রানে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ছিলেন সাত নম্বরে। এই দুই বিভাগের সঙ্গে ফিল্ডিংয়ে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই সুযোগ পান জাতীয় দলে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গত বছর জুনে অভিষেক হয় তাঁর। অভিষেক ওয়ানডেতে দুই উইকেট নেন তিনি। তাঁর উইকেটের খাতা শুরু হয় বর্তমান সময়ের অন্যতম ব্যাটার স্টিভেন স্মিথকে বোল্ড করে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ ওয়াডেতে তাঁর উইকেট সংখ্যা ১৮। পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলে অবশ্য এখনো কোনো উইকেট পাননি তিনি। তাঁর সহজাত প্রতিভার কারণে পরিসংখ্যান যে এখানেই থামছে না তা বলার অপেক্ষা রাখে না।