বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মিরপুরের উইকেট ধরে রেখেছে তার স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্য। যথারীতি আজও দিনের প্রথম ম্যাচটা হলো লো-স্কোরিং। কিছুটা লড়াই হয়েছে এই ম্যাচেও। ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও আন্দ্রে রাসেল। অবদান আছে শুভাগত হোমেরও। এই ত্রয়ীর ব্যাটিং দৃঢ়তায় সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশালকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে মিনিস্টার ঢাকা। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় ম্যাচে এসে প্রথম হারের স্বাদ পেলেন সাকিবরা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ১২৯ রানের মান বাঁচানো সংগ্রহ তোলে বরিশাল। জবাব দিতে নেমে ঢাকা জিতেছে ১৫ বল হাতে রেখেই। এবারের টুর্নামেন্টে তারকা ঠাসা ঢাকার এটাই প্রথম জয়। আগের দুটো ম্যাচেই হেরেছে তারা। দুটো ম্যাচে ফিফটি করেও দলের হার ঠেকাতে পারেননি তামিম ইকবাল। আজ রানের খাতা খুলতেই পারেননি দেশসেরা ওপেনার। তাতে অবশ্য জয় আটকায়নি ঢাকার।
তবে মামুলি পুঁজি নিয়েই ইনিংসের শুরুতে ঢাকাকে কাঁপিয়ে দেন সাকিবরা। ১০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে লড়াইয়ের আভাস দেন তাঁরা। পঞ্চম উইকেট জুটিতে শুভাগতকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন মাহমুদউল্লাহ। দুজনের ৬৯ রানের কার্যকর জুটি ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বরিশালকে। শুভাগত ২৯ রানে বিদায় নিলেও মাহমুদউল্লাহ দলকে জিতিয়েই ছাড়েন ২২ গজ। ৪৭ বলে ৪৭ রান করেন ঢাকা অধিনায়ক। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।
মাহমুদউল্লাহর সঙ্গী রাসেল ১৫ বলে ৩১ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। এ ছাড়া বল হাতে ২ উইকটে নেন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। ঢাকার আরেক বিদেশি ইসুরু উদানার শিকারও দুটি। মাহমুদউল্লাহ ১ উইকেট পেলেও বল হাতে ছিলেন উদার। তাই রাসেলকে ম্যাচ সেরা হিসেবে বেছে নিতে সমস্যা হয়নি নির্বাচকদের। ঢাকার প্রতিপক্ষ শিবিরেও আলো ছড়িয়েছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। ক্রিস গেইল এই আসরের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ৩০ বলে করেন ৩৬ রান। তিন চার ও দুই ছক্কায় গড়া তাঁর ইনিংসটি।
অবাক করা বিষয় হচ্ছে, গেইল এদিন ব্যাটিং করেছেন মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে। পাঁচ নম্বরে নেমেছেন তিনি। গেইলের বিদায়ের পর তাঁর সতীর্থ ডোয়াইন ব্রাভোর ব্যাটে ওঠে ঝড়। ২৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন এই অলরাউন্ডার। বরিশাল অধিনায়ক সাকিব ১৯ বলে ২৩ রানে আউট হন। এ ছাড়া ১৮ বলে ১৫ রানে বিদায় নেন ওপেনার সৈকত আলি। ঢাকার হয়ে উইকেট পেয়েছেন ছয় বোলারই।