অবসর ভেঙে ফেরার নজির তো একেবারে নতুন নয়। কোনো কোনো খেলোয়াড় অবসর-ফেরার বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকেন বারবার। ১৬ মাস আগে ওয়ানডেকে বিদায় বলা মুশফিকের ফের সাদা বলের এই সংস্করণে ফেরার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে তাঁর অবসর ভেঙে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে মুশফিক বিদায় বলেছিলেন ২০২২ সালে। পরবর্তীতে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর সামাজিক মাধ্যমে এক ঘোষণায় ওয়ানডেকেও বিদায় বলেন তিনি। হঠাৎই গত কয়েক মাস ধরে একটা গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে, ওয়ানডেতে ফিরতে চাচ্ছেন মুশফিক। বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে আজ যখন তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন তাঁর কাছে এই প্রশ্ন। উত্তরে বাংলাদেশের ৩৯ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক ব্যাটার বলেন, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে যেটা বললেন, আমি পেয়েছিলাম (প্রস্তাব)। তবে আমার মতে বাংলাদেশ ইনশা আল্লাহ এমন এক পর্যায়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও যাবে। তখন মনে হয় না আমাকে দলের কোনো প্রয়োজনে আসবে।’
মুশফিক অবসরের পর ওয়ানডেতে একটু দোলাচলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হেরেছিল মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। যার মধ্যে আফগানরা বাংলাদেশকে করেছে ধবলধোলাই। তবে গত সাত মাসে ওয়ানডেতে হারানো গৌরব ফিরে পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস ধারাবাহিক খেলছেন। মুশফিক নিজেও ক্যারিয়ারে বেশির ভাগ সময় মিডল অর্ডারে খেলেছিলেন। বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক উন্নতি মুশফিকের চোখ এড়ানোর কথা নয়। সতীর্থদের কথা ভেবে তাই ওয়ানডেতে ফেরার চিন্তা বাদ দিয়েছেন তিনি।
টেস্টে ২৫ বছর পেরোলেও ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে অবস্থা আহামরি ভালো নয়। এখন পর্যন্ত ২৬ টেস্ট জয়ের বিপরীতে হেরেছে ১১২ ম্যাচ। দলীয় পরিসংখ্যান যা-ই হোক, টেস্টে যতটুকু উন্নতি হয়েছে, তাতে তাইজুল ইসলাম, মুমিনুল হক বেশি অবদান রেখেছেন বলে মনে করছেন মুশফিক।
মুমিনুল, তাইজুল সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এক রকম ব্রাত্যই বলা চলে। ওয়ানডেতে মুমিনুল সবশেষ খেলেছেন ২০১৮ সালে। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আর খেলাই হয়নি মুমিনুলের। আর তাইজুল তাঁর দীর্ঘ ১২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০ ওয়ানডে ও ২ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। টেস্টে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ৫০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুমিনুল পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টেই। এই টেস্টের দুই ইনিংসেই ফিফটি পেরিয়েছেন তিনি। আর তাইজুলও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। সিলেটে আজ সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেন, ‘বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের এত দূর আসার পেছনে আমার কাছে দুই ব্যক্তির অবদান অনেক বেশি মনে হচ্ছে। তারা হচ্ছে মুমিনুল আর তাইজুল। কারণ, আমি গত দুই-তিন বছর ধরে একটা জিনিস বুঝতে পেরেছি যে শুধু এক সংস্করণে খেলার অনুভূতি কেমন হয়। কোনোরকম অভিযোগ না করেই প্রসেস অনুযায়ী কাজ করছে।’
২০০৫ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মুশফিকের। দীর্ঘ ২১ বছরে ১০১ টেস্ট খেলেছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে একমাত্র ১০০ টেস্ট খেলা ক্রিকেটার তিনি। ৩৯ বছর বয়সী মুশফিক টেস্টকে খুব উপভোগ করেন। আজ সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভালো লাগছে অবশ্যই খুবই ভালো। আর অবশ্যই ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। প্রত্যেক দিনই আমার কাছে আশীর্বাদ। সব সময় টেস্টকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি।’
সবশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে সাত নম্বরে থেকে শেষ করেছিল বাংলাদেশ। বর্তমান (২০২৫-২৭) চক্রে বাংলাদেশ অবস্থান করছে ছয় নম্বরে। পাকিস্তানকে হারানোর ফলেই মুশফিক-মুমিনুলদের পয়েন্ট টেবিলে উন্নতি হয়েছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ প্রসঙ্গে মুশফিক বলেন, ‘গতবার আমরা আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়শিপে যা অর্জন করেছি, সেটাকে ছাড়িয়ে যেতে চাইছি। এটা অবশ্যই অনেক বড় অর্জন হবে।’
বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে সাত ম্যাচ জিতে যৌথভাবে শীর্ষে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। তবে মুশফিক সাত টেস্ট জিতেছেন ৩৪ টেস্টে অধিনায়কত্ব করে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ হেরেছে ১৮ টেস্ট। শান্তর নেতৃত্বে ১৭ টেস্টের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ৭ টেস্ট। সিলেটে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।