ফুটবল মাঠে এ দৃশ্য আগে দেখা গিয়েছে। ২০০৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে জিনেদিন জিদানের মারা ঢুঁস খেলাধুলার ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে রয়েছে। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ঢুঁস মারার ঘটনা খুব একটা পরিচিত নয়। এমন দৃশ্য এবার দেখা গিয়েছে রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে।
কর্ণাটকের বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়লেও প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারকে ঢুঁস মারার দায়ে জম্মু-কাশ্মীরের অধিনায়ক পরশ দোগরার ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ক্রিকবাজের আজকের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। তবে ম্যাচ রেফারি নারায়ণন কুট্টি ম্যাচ শেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। সেক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মতো বড় শাস্তিও আসতে পারে।
ঘটনাটি ঘটে জম্মু ও কাশ্মীরের ইনিংসের ১০১তম ওভারে। তখন ক্রিজে কানহাইয়া ওয়াধাওয়ানের সঙ্গে ব্যাট করছিলেন পরশ। বোলার ছিলেন প্রসিধ কৃষ্ণা। ওভারের একটি বল খেলার পর ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ফিল্ডিং করা কেভি অনীশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান পরশ। অনীশ স্লেজিং করায় মেজাজ হারান কাশ্মীর অধিনায়ক। একপর্যায়ে তিনি তেড়ে গিয়ে অনীশকে ঢুঁস মারেন।
আচমকা এই ঘটনায় অবাক হয়ে যান অনীশ। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আসেন কর্ণাটকের অধিনায়ক মায়াঙ্ক আগারওয়াল। তিনি পরশকে প্রশ্ন করেন, কেন ঢুঁসো মারলেন তিনি। তাতে পরশ আরও কিছু বলেন। ঘটনাস্থলে এ বার আসেন লোকেশ রাহুল। তাঁর সঙ্গেও তর্কে জড়ান পরশ। বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি সামলাতে আসেন আম্পায়ারেরা। তাঁরা কথা বলেন পরশের সঙ্গে। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, হাতের ইশারায় অনীশের কাছে ক্ষমা চাইছেন পরশ। কিন্তু তা মানতে চাননি অনীশ। তিনি বারবার হাতের ইশারায় দেখান, ঢুঁস মেরে ভালো করেননি পরশ।
পরশ পরে ক্ষমা চাইলেও অনীশ তা মেনে নেননি। ম্যাচ শেষে অবশ্য পরশ বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার চেষ্টা করেছেন। জম্মু ও কাশ্মীর অধিনায়ক বলেন, ‘খুব বড় ব্যাপার নয়। ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে উত্তেজনার মুহূর্তে এমনটা দু-একবার হতেই পারে। সমস্যা সেখানেই মিটে গেছে।’
ব্যক্তিগত আচরণের জন্য পরশ শাস্তি পেলেও মাঠের ক্রিকেটে জম্মু ও কাশ্মীর এখন চালকের আসনে। রঞ্জি ইতিহাসের প্রথমবার ফাইনালে উঠেই তারা কর্ণাটকের বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছে। দ্বিতীয় দিনের শেষে কাশ্মীরের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৫২৭ রান।