বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার চেতন শর্মার মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে পাকিস্তান। দেশটির ভারত ম্যাচ বর্জনের ঘোষণাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বলে মনে করছেন তিনি।
এক অনুষ্ঠানে চেতন শর্মা বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কোনো দোষ ছিল না। এটা রাজনীতির একটা অংশ। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। এরপর আপনারা একটি ইউটার্ন দেখতে পাবেন। তখন শুনবেন, ‘জনগণের অনুভূতির কথা বিবেচনা করে ক্রিকেটের ক্ষতি হওয়া উচিত নয়; পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে খেলবে।’ আসল কথা হলো শুধু বাংলাদেশের নির্বাচনের কারণেই এই অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। আমি নিজেও একজন রাজনীতিবিদ ছিলাম, নির্বাচনেও লড়েছি। নির্বাচনের পর হয়তো এমনকি সেনাপ্রধানও বলবেন—খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত এবং ম্যাচটি (ভারত-পাকিস্তান) হওয়া উচিত।’
মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। অনেক আলোচনার পরও তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারেনি আইসিসি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তভুর্ক্ত করেছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিলেও সে পথে হাঁটেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারত ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান সরকার।
বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খোলেনি পিসিবি। তাই পাকিস্তান সরকারের এই ঘোষণার কোনো ভিত্তি নেই বলে মনে করেন চেতন শর্মা। সেই সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের এই ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা ক্ষতিকারক হিসেবেই দেখছেন তিনি, ‘পিসিবি এখন পর্যন্ত আইসিসিকে কিছু জানায়নি। আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা ছাড়া এসব বক্তব্যের কোনো মূল্য নেই। যে কেউ অবসরের ঘোষণা দিতে পারে। সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালে না কিছুই বদলায় না। এখানে আসলে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? ক্রিকেট আর ক্রিকেটাররাই।’