প্রায় ২২ বছর আগে শচীন টেন্ডুলকারের বিরুদ্ধে এক আউট নিয়ে এখনো চলে আলাপ-আলোচনা। আম্পায়ার স্টিভ বাকনর তখন আউট দিলেও পরে জানা যায় আদতে শচীন আউট ছিলেন না। সেই ঘটনার দীর্ঘ ২২ বছর পর বাকনর নীরবতা ভেঙেছেন।
২০০৩-০৪ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ব্রিসবেন টেস্টে তখন রানের খাতাই খুলতে পারেননি শচীন। জেসন গিলেস্পির একটি ভেতরে ঢোকা বল ছেড়ে দিয়েছিলেন শচীন। প্যাডে আঘাতের পর অজিদের জোরালো আবেদনে আঙুল তুলে দেন বাকনর। শচীন স্তব্ধ হয়ে উইকেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ক্রিকেটপ্রেমীদেরও বিশ্বাস হচ্ছিল না যে তিনি আউট হয়ে গিয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনকে কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে বাকনর বলেন, ‘আমি জানি শচীনকে এলবিডব্লিউ দেওয়াটা ভুল ছিল। আজ ২২ বছর হয়ে গেল। তবুও মানুষ প্রতিদিন এই আউটটি নিয়ে কথা বলে।’
শচীনকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তেই আউট দিয়ে ফেলেছিলেন বলে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন বাকনর। ২২ বছর পেরোলেও এই আউট নিয়ে এখনো অনুশোচনা কাজ করছে বাকনরের। ক্যারিবীয় এই আম্পায়ার বলেন, ‘আসলে মানুষ মাত্রই ভুল হয়। সেদিন কেন তাকে আউট দিলাম? সে কি আদৌ আউট ছিল? না, ছিল না। আমি মেনে নিয়েছি যে সেটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আমাদের ভুলগুলো মেনে নিয়েই জীবন তার আপন গতিতে চলে।’
সেদিনের সেই আউটের পর টিভি রিপ্লেতে দেখা গিয়েছিল, বলটি পরিষ্কারভাবে স্টাম্পের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। ধারাভাষ্য কক্ষে থাকা কিংবদন্তি টনি গ্রেগ তখনই মেজাজ হারিয়ে বলেছিলেন,‘এটি অত্যন্ত বাজে একটি সিদ্ধান্ত। রিপ্লেতে বলের বাউন্স আর মুভমেন্ট দেখুন। এটি কোনোভাবেই আউট হতে পারে না।’
শচীনের ক্যারিয়ারে বাকনারের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতীয় ভক্ত-সমর্থকদের মনে এখনো হতাশা কাজ করছে। তবে দীর্ঘ দুই দশক পর খোদ আম্পায়ারের এই স্বীকারোক্তি সেই পুরনো ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দেবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।