মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ফরচুন বরিশাল। সেই ম্যাচটা ছিল ‘লো স্কোরিং ম্যাচ’। মিরপুরেই গত রাতে খুলনা টাইগার্স-ফরচুন বরিশাল ম্যাচটা ‘হাইস্কোরিং’। তারকায় ঠাসা বরিশাল দারুণ ব্যাটিং করেও একতরফাভাবে ম্যাচ হেরেছে।
বরিশালের ইনিংসে গত রাতটা যে ছিল তামিম-মুশফিকের। বিপিএল ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৩০০০ রানের মাইলফলক ছুয়েছেন তামিম। অন্যদিকে মুশফিক ঝড় তুলেছেন মিরপুরে। ৩৯ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের দুই তারকা ক্রিকেটারের মাইলফলক ছোঁয়ার দিনে বরিশাল নির্ধারিত ২০ ওভারে করেছে ৪ উইকেটে ১৮৭ রান। সেই রান খুলনা তাড়া করতে নেমে ২ ওভার হাতে রেখে ৮ উইকেটের বিশাল জয় পায়। মেহেদী হাসান মিরাজের মতে, বরিশাল লড়াই করার মতো রান করেছে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বরিশালের অলরাউন্ডার বলেন, ‘দেখুন, আমরা যে রান করেছিলাম, তা ডিফেন্ড করার মতোই রান ছিল। রান যে কম হয়েছে তা নয়। ১৮৮ রান করেও যদি হেরে যাই, তাও তো বলতে পারি না যে রান কম হয়েছে।’
প্রথমে ব্যাটিং করা বরিশালের স্কোর ১৮ ওভার শেষে ছিল ৩ উইকেটে ১৬৫ রান। উইকেটে তখন ব্যাটিং করছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম। সেখান থেকে শেষ ২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ২২ রান যোগ করে বরিশাল। মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও ফাহিম আশরাফের করা ১৯ ও ২০—শেষ দুই ওভারেই ১১ রান করে তুলেছে বরিশাল। এখানে (শেষ দুই ওভারে) রানের কিছুটা ‘ঘাটতি’ দেখছেন মিরাজ। বরিশালের স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার বলেন, ‘হয়তো শেষ দুই ওভারে যদি রানটা একটু বেশি হতো, তাহলে আমাদের দলের জন্য ভালো হতো। তবে তাদের (খুলনা) দুই বোলার শেষে ভালো বোলিং করেছে।’
১৮৮ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝোড়ো ব্যাটিং করতে থাকে খুলনা। আরও স্পষ্ট করে বললে এভিন লুইসের টর্নেডো ইনিংস। ২২ বলে ৫টি করে চার ও ছক্কায় ৫৩ রান করেন লুইস। প্রথম ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে খুলনা করে ফেলে ৮৭ রান। খুলনার প্রথম ৬ ওভারের ঝড়েই ম্যাচের মোড় ঘুরে গেছে বলে মনে করেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস আমার কাছে মনে হয়েছে যে হয়তো তাদের ব্যাটাররা বেশি ভালো ব্যাটিং করেছে। বিশেষ করে প্রথম ছয় ওভার। সেখানেই খেলাটা তাদের পক্ষে গেছে। ৬ ওভারে রানটা ৬০-এর ভেতর রাখতে পারলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেত। তবে প্রথম ৬ ওভারেই আমাদের খেলা হাতছাড়া হয়েছে।’