অল্প রানে আটকে রেখে অর্ধেক কাজ আগেই সেরে রাখেন নাহিদ রানা, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদরা। মিরপুর শেরেবাংলায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডে বাংলাদেশের আগুনে বোলিংয়ে ১১৪ রানেই শেষ পাকিস্তান। ৫০ ওভারে ১১৫ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করে কত আগে বাংলাদেশ খেলা শেষ করে, সেটাই ছিল দেখার অপেক্ষা। পাকিস্তানের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে ইফতারের আগেই খেলা শেষ করে দিল স্বাগতিকেরা।
ম্যাচটা বাংলাদেশ জিততে পারত ৯ উইকেটেই। কিন্তু দলের জিততে যখন ৬ রান দরকার, তখন নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হয়েছেন। তাতে বাংলাদেশের জয় একটু দেরিতে এলেও ইফতারের আগেই খেলা শেষ হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে যখন মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের সুমধুর ধ্বনি, তখনই বাংলাদেশ পেয়েছে ৮ উইকেটের বিশাল জয়। ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বল পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ওয়াইড বল করতেই জিতে যায় বাংলাদেশ।
১১৫ রানের লক্ষ্যে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করতে গিয়ে দ্রুত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে সাইফ হাসানকে (৪) ফেরান শাহিন শাহ আফ্রিদি। ২.৪ ওভারে ১ উইকেটে ২৭ রানে পরিণত হওয়া বাংলাদেশ পাওয়ার প্লে (প্রথম ১০ ওভার) শেষ করেছে ১ উইকেটে ৮১ রানে। তানজিদ হাসান তামিম ও শান্ত একের পর এক বাউন্ডারি মেরেছেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ বলে ৮২ রানের জুটি গড়েন তাঁরা (তামিম-শান্ত)।
১৪তম ওভারের পঞ্চম বলে শান্তকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র। হালকা লাফিয়ে ওঠা বল শান্ত খোঁচা লাগালে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ ধরেন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৩৩ বলে ৫ চারে শান্ত করেন ২৭ রান। এক ওভার বিরতিতে ওয়াসিম বোলিংয়ে আসতেই নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়। ১৫.১ ওভারে ২ উইকেটে ১১৫ রান করে স্বাগতিকেরা। ৪২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তানজিদ তামিম।
২০৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন নাহিদ রানা। ৭ ওভারে ২৪ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে এটা তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। এর আগে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েছিলেন মোস্তাফিজ। লর্ডসে সেবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
টস জিতে আজ মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। আগে ব্যাটিং পাওয়া পাকিস্তান বিনা উইকেটে ৯.৫ ওভারে ৪১ রান করেছে। এখান থেকেই পাকিস্তানের ইনিংসের ভাঙন শুরু। ৭৩ রানে সব উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
আট নম্বরে নামা ফাহিম আশরাফ ৪৭ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় করেছেন ৩৭ রান। দশম উইকেটে আবরার আহমেদের সঙ্গে ৪১ বলে ৩২ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন ফাহিম। যা পাকিস্তানের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। ৩১তম ওভারের চতুর্থ বলে ফাহিমকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হওয়া সফরকারীদের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাহিদ রানা ৭ ওভারে ২৪ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে এটা তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। মিরাজ নিয়েছেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন ও মোস্তাফিজ। আজকের জয়ে আট বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জিতল বাংলাদেশ। এর আগে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ২০১৮ এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।