ক্যাচ মিসের মাশুল দিয়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ব্যাটার নাজিবুল্লাহ জাদরানকে তিনবার জীবন দেওয়ার ফল পেয়েছে তারা। প্রতিপক্ষকে ১৭৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দেওয়ার পরও ৭ উইকেটের বিশাল পরাজয় দেখতে হয়েছে তাদের।
মাশরাফি বিন মর্তুজার ১৯ তম ওভারের প্রথম তিন বলে টানা দুই ছয়ের সঙ্গে এক চারে সিলেটকে জয় এনে দেন জীবন পাওয়া জাদরান। অথচ এর আগে তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়েছিল চট্টগ্রাম। দলীয় ১৪ রানে তানজিদ হাসান তামিম আউট হন। বাঁহাতি ব্যাটার আউট হওয়ার পর অবশ্য ইমরানুজ্জামানকে নিয়ে দলের রান বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন আভিষ্কা ফার্নান্দো। তবে ৩৯ রানে তাঁকে আউট করে ‘নাগিন ড্যান্সের’ উপলক্ষ পেয়ে যান নাজমুল হাসান অপু। সঙ্গে দলকেও ম্যাচে ফেরান বাঁহাতি স্পিনার। এরপরেই মাশরাফির উইকেট পাওয়ার মুহূর্ত। যার প্রথম পর্বে খেলার কথা ছিল না সেই মাশরাফি আজ চট্টগ্রামের অধিনায়ক শুভাগত হোমের সঙ্গে টস করতে নেমে চমকে দিলেন সবাইকে।
তবে টসের চেয়েও বড় চমকটা দিলেন মাশরাফি বোলিংয়ে এসে। দলীয় অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই উইকেট নিলেন তিনি। ছোট রান আপে মাশরাফিকে বোলিং করতে দেখে যেন লোভ সামলাতে পারছিলেন না ব্যাটার ইমরানুজ্জামান। আর সেই লোভের ফাঁদেই পা দিয়ে প্রথম বলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ইয়াসির আলি রাব্বির হাতে ধরা পড়লেন।
৩০ বলে ৬১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন জাদরান। ২০৩ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি সাজান ৫ ছক্কা ও ৩ চারে। তবে ইনিংসটি খেলার আগে প্রথম জীবন পেয়েছিলেন বেন কাটিংয়ের বলে তানজিম হাসান সাকিবের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে। পরে অবশ্য প্রায়শ্চিত্তের সুযোগ তৈরি করেছিলেন সাকিব। কিন্তু এবার নাজমুল হাসান শান্ত করে বসেন ভুল। জাদরানকে দ্বিতীয়বার জীবন দেন তিন। আর শেষবার আফগানিস্তানের ব্যাটার জীবন পান রিচার্ড এনগারাভার হাত ফসকালে। অন্যদিকে তাঁকে দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়েছে দীপু। ৩৯ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে। সমান ৪ চার ও ছয়ের ইনিংসে বিপিএলে প্রথম ফিফটিও পেয়েছেন উদীয়মান এই ব্যাটার।
ভালো শুরুর পরও দুই ওপেনার ব্যর্থ হলেও তিনে নেমে দারুণ ফিফটি করেছেন জাকির। ১৬২.৭৯ স্ট্রাইকরেটে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন তিনি। ফিফটি করার পথে সতীর্থ হ্যারি টেক্টরের সঙ্গে অনবদ্য ৮২ রানের জুটি গড়েন তিনি। অন্যদিকে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন টেক্টর।