তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যেই ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের অবস্থার জানান দিয়েছে আফগানিস্তান। ৩ সংস্করণে খেললেও টি-টোয়েন্টিতে একটু বেশিই কার্যকর দলটি। ধারাবাহিক এবং সাহসী ক্রিকেটের কারণে ভক্তদের মনে আলাদাভাবে জায়গা করে নিয়েছে রশিদ খান, মোহাম্মদ নবিরা। তবে ১২ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাজে সময়ের মুখোমুখি হতে হলো আফগানদের।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম ৩ ম্যাচ শেষে মাত্র ১ জয়ের দেখা পেয়েছে আফগানিস্তান। নিউজিল্যান্ডের পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে যায় তারা। দলটির সুপার এইটের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিততেই হতো কানাডাকে। কিন্তু এই সমীকরণ মেলেনি; ৮ উইকেটের জয়ে ‘ডি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ আটে পৌঁছে গেছে ব্ল্যাক ক্যাপরা। তাদের জয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে আফগানিস্তানের। নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামীকাল তাদের প্রতিপক্ষ কানাডা। বিদায় নিশ্চিত হওয়ায় কেবলমাত্র নিয়মরক্ষা করতেই নামবে আফগানিস্তান।
এর আগে সবশেষ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল আফগানিস্তান। পরের পর্ব অর্থাৎ ২০১৬ সালে সেরা দশে খেলেছিল তারা। ২০২১ ও ২০২২ সালে দলটি বিদায় নিয়েছিল সেরা ১২ থেকে। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় অর্জনটি এসেছে ২০২৪ সালে। যুক্তরাষ্ট্র-ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সেবার সবাইকে চমকে দিয়ে সেমিফাইনালে খেলেছিল তারা। ফাইনালে ওঠার মিশনে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যায় আফগানিস্তান।
২০২৪ সালের সেমিফাইনালিস্ট হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আফগানিস্তানের কাছে এবারও প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। ফেভারিট হিসেবেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিল রশিদের দল। কিন্তু গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়ে ভক্তদের হতাশ করেছে তারা। বাদ পড়লেও গত ১১ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াই উপহার দিয়েছে। উভয় দল সমান ১৮৭ রানে থামায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। তাও একটি নয়, সে ম্যাচটি নিষ্পত্তি হয়েছিল দুটি সুপার ওভারে। শেষ হাসি হেসেছে এইডেন মার্করামের দল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮২ রান করেও ৫ উইকেটে হেরে যায় আফগানিস্তান।