ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর আজ ভিন্ন এক স্টিভেন স্মিথকেই দেখা গেল। সতীর্থরা হেলেদুলে মাঠ ছাড়লেও তাঁকে ড্রেসিংরুমের দিকে দৌড় দিতে দেখা যাচ্ছে। আজকের আগে ১০৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে কখনো এমন দৌড় দিতে দেখা যায়নি।
সিডনি টেস্টে ডেভিড ওয়ার্নার অবসর না নিলে অবশ্য তাঁকে এমন দৌড় দিতে দেখা যেত। কিন্তু বাঁহাতি ব্যাটার টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টানায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন স্মিথ। উসমান খাজার সঙ্গে ওপেনিং করতে নামবেন বলেই প্যাড-গার্ড পড়ে তৈরি হওয়ার জন্যই দৌড়টা দিয়েছেন তিনি। প্রথমবার দীর্ঘ সংস্করণে ওপেনিং করতে নামবেন বলেই হয়তো নিজেকে একটু বেশি সময় দিতে চেয়েছিলেন ড্রেসিংরুমে।
কিন্তু যেখানে দীর্ঘ সময় দেওয়ার কথা সেখানেই ব্যর্থ হয়েছেন স্মিথ। ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে মাত্র ৩৪ মিনিট টিকতে পেরেছেন ক্রিজে। দেখে শুনে ব্যাটিং করতে থাকা সাবেক অধিনায়কের প্রথম ইনিংস থেমেছে ১২ রানে। ২৬ বলের ইনিংসে ২ চার মেরেছেন তিনি। ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটার আউট হয়েছেন এই টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া শামার জোসেফের বলে।
জোসেফ অবশ্য এই কীর্তির জন্য সতীর্থ জাস্টিন গ্রেভসকে একটা ধন্যবাদ দিতে পারেন। কেননা স্লিপে দুর্দান্তভাবে স্মিথের ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন গ্রেভস। পরে মারনাস লাবুশানেকেও (১০ রান) আউট করেছেন তিনি। তারও আগে শেষ ব্যাটার হিসেবে ব্যাটিংয়ে নেমে দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেছেন অভিষেক ইনিংসে।
জোসেফের শুরুটা স্বপ্নের হলেও অ্যাডিলেড টেস্টের প্রথম দিনটা তাঁর দলের জন্য হতাশার। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৮৮ রানে অলআউট হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেছেন কার্ক ম্যাকেঞ্জি। প্রতিপক্ষকে অল্প রানে গুটিয়ে দিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্যাট কামিন্স। ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অজিদের সেরা বোলার তিনি। তবে ৪৪ রানে সমান ৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে অধিনায়ককে দুর্দান্ত সহায়তা করেছেন আরেক পেসার জশ হ্যাজলউড।
নিজেদের প্রথম ইনিংস শুরু করতে নেমে দিন শেষে ২ উইকেটে ৫৯ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। স্মিথ-লাবুশানে আউট হলেও দলের হাল ধরেছেন খাজা-ক্যামেরুন গ্রিন। দুজনে অপরাজিত ১৪ রানের জুটি গড়েছেন। ৩০ রানে থাকা ওপেনার খাজার সঙ্গে অপরাজিত আছেন গ্রিন ৬ রানে।