ওয়ানডে বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশের পর টুর্নামেন্টের ক্ষণ গণনাও শুরু হয়েছে। ভারত বিশ্বকাপের আর ৭১ দিন বাকি রয়েছে। টুর্নামেন্ট ৫ অক্টোবর শুরু হয়ে শেষ হবে ১৯ নভেম্বর। সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টের সবচেয়ে হাই ভোল্টেজ ম্যাচটি হওয়ার কথা ১৫ অক্টোবর।
সেদিন বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তানের ধ্রুপদি লড়াই বলে কথা। কিন্তু এদিন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচ হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এই জল্পনা-কল্পনা অবশ্য দুই দলের কোনো বোর্ডের ঝামেলার কারণে নয়, নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে এই ম্যাচের সূচি পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’।
বিশ্বকাপের ম্যাচটির দিনই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নবরাত্রি শুরু হবে। সেদিন গুজরাটে রাতব্যাপী গরবা নৃত্যের সঙ্গে উৎসবটি পালন করা হয়। আর ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচও যেহেতু আহমেদাবাদে, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) ম্যাচটি পেছানোর অনুরোধ করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ বিষয়ে বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, ‘আমরা বিকল্প পন্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি এবং শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আমাদের বলেছে যে, ভারত বনাম পাকিস্তানের মতো একটি হাইপ্রোফাইল ম্যাচ আছে, যা দেখার জন্য হাজার হাজার মাইল দূর থেকে সমর্থকেরা আহমেদাবাদে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সময়ে নবরাত্রি হওয়ায় সমস্যা হতে পারে। তাই বিষয়টি এড়ানো উচিত।’ আগামীকালই হয়তো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বিসিসিআই।
নিরাপত্তারক্ষীদের এই শঙ্কা অমূলক নয়। ধর্মীয় উৎসবে বহু মানুষের ভিড় হবে গুজরাটে। এর সঙ্গে ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ বলে কথা। এমনিতে কোনো টুর্নামেন্টে দুই দলের ম্যাচ দেখতে যে উত্তেজনা কাজ করে সমর্থকদের মধ্যে, সেখানে বিশ্বকাপের মতো ম্যাচে এই মাত্রা আরও বেড়ে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তখন দুই দিক সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য।
তবে বিসিসিআইকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বেশ কিছু বিষয় ভাবতে হবে। মানুষের নিরাপত্তার চিন্তা করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিশ্বকাপের খেলা দেখতে আসার জন্য ইতিমধ্যে যাঁরা হোটেল বুকিং দিয়েছেন কিংবা ভ্রমণের টিকিট কেটেছেন, তাঁদের বিষয়টিও ভাবতে হবে। সঙ্গে নিজেদের আর্থিক বিষয়টিও ভাবতে হবে বিসিসিআইকে।