মহেন্দ্র সিং ধোনি খেলছেন কি খেলছেন না—এবারের আইপিএলে এমন খবর প্রকাশ হয়েছে অনেকবার। কখনো জানা গেছে, চোটে পড়েছেন বলে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফিট হলেই ফিরবেন আইপিএল ইতিহাসে যৌথ সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ী অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ছাড়াই শেষ হয়ে গেল চেন্নাই সুপার কিংসের আইপিএল পর্ব।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গত রাতে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে শুধু জিতলেই প্লে অফ নিশ্চিত হতো না চেন্নাই সুপার কিংসের। নেট রানরেটের পাশাপাশি পক্ষে আসতে হতো অন্য ম্যাচের ফলও। প্লে অফে উঠলে হয়তো ধোনিকে দেখা যেতে পারে—ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এমন খবর গত কয়েক দিনে প্রকাশ হয়েছে অনেকবার। কিন্তু চেন্নাই আর সেই সুযোগ দিল কই। গুজরাটের কাছে ৮৯ রানে হেরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল রুতুরাজ গায়কোয়াডের নেতৃত্বাধীন চেন্নাইয়ের।
৪৪ বছর বয়সী ধোনির আইপিএলটা এবার কাটল বসে। কয়েক মাস পর তিনি ৪৫ বছর পূর্ণ করবেন। ২০২৭ আইপিএল আসতে আসতে প্রায় ৪৬ হয়ে যাবে ধোনির। ৪৬ ছুঁই ছুঁই ভারতীয় এই কিংবদন্তিকে কি আগামী আইপিএলে দেখা যাবে—গায়কোয়াডকে গত রাতে এই প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেনি। চেন্নাইয়ের বর্তমান অধিনায়ক বলেন, ‘এটা আপনি আগামী বছরেই জানতে পারবেন। আমিও আগামী বছর জানতে পারব।’
ধোনির নেতৃত্বে ২০২৩ আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। কিন্তু পরের গল্পটা শুধুই হতাশার। ফাইনাল তো দূরে থাক, টানা তিন আইপিএলে প্লে-অফেই উঠতে পারেনি দলটি। যার মধ্যে ২০২৪ ও ২০২৬ সালে চেন্নাইকে নেতৃত্ব দিয়েছেন গায়কোয়াড। ধোনি গতবার চেন্নাইয়ের নেতৃত্বে থাকলেও ব্যাটিংয়ে নামতেন একেবারে শেষের দিকে। যদিও তাঁর কিছু কার্যকরী ইনিংস ছিল।
ধোনি এবারের আইপিএলে না থাকায় আক্ষেপ ঝরেছে গায়কোয়াডের কণ্ঠে। গতকাল গুজরাটের কাছে হারের পর হায়কোয়াড বলেন, ‘তাঁকে (ধোনি) না পাওয়া আমাদের জন্য খুবই বড় একটি ক্ষতি ছিল। তিনি এমনই একজন, যিনি বিশেষ করে শেষের ওভারগুলোতে এসে প্রতিপক্ষের মধ্যে ভয় ধরিয়ে দিতে পারতেন। শুধু উইকেটে টিকে থাকলেই ম্যাচের চিত্র বদলাতে পারতেন। এই মৌসুমে আমরা সত্যিই তাঁকে অনেক বেশি মিস করেছি। তবে আগামী মৌসুমে কী হবে, সেটা বলতে পারছি না।’
আইপিএল ইতিহাসে সর্বোচ্চ পাঁচবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংস। মুম্বাইয়ের পাঁচ শিরোপা এসেছে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে। চেন্নাইও পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ধোনির নেতৃত্বে। চিদাম্বরম স্টেডিয়াম তো বটেই, আইপিএলে যেকোনো ভেন্যুতেই চেন্নাইয়ের ম্যাচ হলে হলুদ জার্সি পরিচিত দর্শকদের উপস্থিতি থাকত বেশি। ধোনির পোস্টার হাতে অনেকে উল্লাস করতেন। এবার আর ভক্ত-সমর্থকদের সেই সুযোগ মিলল কই। আগামী আইপিএলেও ধোনির খেলা অনেকটাই অনিশ্চিত।