এক বছর না গড়াতে ইরানে আবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরানও। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চিন্তায় পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের কোনো দল সফর না করলেও জেদ্দায় আটকা পড়েছেন মুশফিকুর রহিম।
পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে তৈরি হয়েছে চরম অনিরাপত্তা। নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ফ্লাইট স্থগিত বাংলাদেশের বিমান সংস্থাগুলোও। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন মুশফিকুর রহিম। ওমরাহ পালন শেষে দুবাই হয়ে দেশে ফেরার পথে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় আরও হাজারো যাত্রীর সঙ্গে মুশফিক আজ জেদ্দা বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন। মুশফিকের আটকা পড়ার বিষয়টি নিয়ে অবগত হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
চিন্তায় পড়েছে আইসিসিও। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের লজিস্টিকসের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের বিষয়টি খুব ভালোভাবেই জড়িত। বিশ্বকাপে যুক্ত অনেকেরই ফেরার ফ্লাইট দুবাই-দোহা হয়ে। আইসিসি গতকাল এক সংবাদবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট টুর্নামেন্টের আয়োজনে সরাসরি কোনো প্রভাব না ফেললেও তারা স্বীকার করছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি—এদের মধ্যে খেলোয়াড়, দল ব্যবস্থাপনা, ম্যাচ অফিশিয়াল, সম্প্রচার দল এবং ইভেন্ট স্টাফ অন্তর্ভুক্ত। তাদের অনেকেই টুর্নামেন্ট শেষে নিজ নিজ দেশে ফেরার জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোর ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দুবাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আইসিসি জানিয়েছে তাদের ট্রাভেল ও লজিস্টিকস দল বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিকল্প রুট নির্ধারণ ও নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এর মধ্যে ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন হাবের মাধ্যমে সংযোগের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আইসিসির নিরাপত্তা পরামর্শক দল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেবে। পাশাপাশি একটি বিশেষ আইসিসি ট্রাভেল সাপোর্ট ডেস্কও চালু করা হয়েছে।
আইসিসির এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমাদের এই ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তির নিরাপত্তা ও কল্যাণই আইসিসির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা আমাদের ভ্রমণ, লজিস্টিকস ও নিরাপত্তা দলকে সক্রিয় করেছি এবং দিন-রাত কাজ করছি, যাতে সব অংশীজন নির্বিঘ্নে, নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরতে পারেন। পাশাপাশি যেসব দর্শক-সমর্থক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণ করেছেন বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের অনুরোধ করব—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করতে এবং নতুন করে কোনো আন্তর্জাতিক ভ্রমণে যাওয়ার আগে সব বিষয় বিবেচনায় নিতে।’