১২ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট নেই! এ মাঠেই তো রানের ফুলঝুরি ছুটিয়ে প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। দ্বিতীয় টেস্টে নিজেদের পরিচিত দৃশ্যে যেন ফিরে যাচ্ছিল তারা। যে মাঠে ঐতিহাসিক জয়ের আমেজ এখনো টইটম্বুর, সেখানে বিপর্যয়ে ঢাল হাওয়ার দৃঢ় মানসিকতার আস্থাও ছিল। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইটা করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাস।
উঁকি দিচ্ছিল টেস্টে নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোরের। সপ্তম উইকেটে লিটন-মিরাজের দেড় শ ছাড়ানো ম্যারাথন জুটি, যার সৌজন্যে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামল ২৬২ রানে। রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংস শেষে ১২ রানে এগিয়ে থাকে পাকিস্তান। ম্যাচে দারুণভাবে ফেরে বাংলাদেশেও।
টেস্ট ক্যারিয়ারে অষ্টম ফিফটি (৭৪) করে মিরাজ আউট হলেও অবিচল লিটন তুলে নিয়েছেন লাল বলে চতুর্থ সেঞ্চুরি। নবম ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ১৩৮ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। দুজনে সপ্তম উইকেটে গড়েন ১৬৫ রানের অসাধারণ এক জুটি।
পাকিস্তানের হয়ে খুররাম শাহজাদ নিয়েছেন ৬টি উইকেট। মিরাজকে ফিরিয়ে লিটনের সঙ্গে জুটিও ভাঙেন তিনি। ১২৪ বলে ১টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭৪ রান করেছেন মিরাজ। ২২৮ বলে ১৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১৩৮ রান করেন লিটন। মির হামজা ও সালমান আলী আঘার শিকার দুটি করে।
তৃতীয় দিন শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে হাসান মাহমুদের তোপের মুখে পড়ে ২টি উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। দিন শেষে ২ উইকেটে ৯ রান স্বাগতিকদের। সব মিলিয়ে লিড হলো ২১। আগামীকাল চতুর্থ দিন যদি ছন্দে ধরে রাখতে পারেন বাংলাদেশের বোলাররা, তা হলে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক ফিরেছেন ৩ রানে। ৩ নম্বরে খুররাম শাহজাদকে পাঠালেও সুবিধা করতে পারেনি পাকিস্তান। রানে খাতা খোলার আগেই আউট হয়েছেন তিনি। দুটি উইকেটই নিয়েছেন হাসান।