বিসিবি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মিরপুরে বোর্ড কার্যালয়ে খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি গ্রহণ চলবে। গতকাল প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় দুদকের অনুসন্ধানে থাকা ১৮ ক্লাবের মধ্যে ১৫ ক্লাবকে বাইরে রাখে নির্বাচন কমিশন। এতে সেই ক্লাবগুলোর কাউন্সিলর মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
আজ দুপুরে বাদ পড়া ক্লাব সংগঠকদের ব্যানারে একটি সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। সূত্র বলছে, বিকেলে এই ১৫ ক্লাবের সংগঠক হিসাবে কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন। বিসিবি মিডিয়া ও আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু ভাইকিংস ক্রিকেট একাডেমি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে কমিশন ক্যাটাগরি–২ থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে। ২০ আগস্টের বিসিবি বোর্ড সভায় দুদকের অনুসন্ধানে থাকা ক্লাবগুলোর মনোনয়ন আটকে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তারপরও কেন কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে এসব ক্লাবকে তালিকার বাইরে রাখল—এ নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছেন বাদ পড়া ক্লাবগুলোর মনোনয়নপ্রার্থীরা।
ভাইকিংসের কাউন্সিলর প্রার্থী মিঠু বলেন, ‘বিসিবির গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১০-এ স্পষ্টভাবে সদস্য অযোগ্যতার বিষয়গুলো বলা আছে।’
বিসিবির গঠনতন্ত্রের ১০ অনুচ্ছেদের ধারা উল্লেখ করে মিঠু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিসিবির গঠনতন্ত্রের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদে সাধারণ পরিষদ সদস্যের অযোগ্যতা নিয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। ১০.১ কোনো ব্যক্তি সাধারণ পরিষদে সদস্য মনোনীত হবার এবং সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন, যদি দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুসারে তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত হন, আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন বা মানসিকভাবে অসুস্থ প্রমাণিত হন। ১০.২—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ দুই বা ততোধিক জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের সাধারণ পরিষদের সদস্য বা কাউন্সিলর হলে তিনি অযোগ্য হবেন। ১০.৩—সাধারণ পরিষদ গঠনের জন্য মনোনীত প্রতিনিধি একাধিক সংস্থা, ক্লাব, প্রতিষ্ঠান, বিভাগ বা শ্রেণিতে প্রতিনিধিত্ব করলে তিনি অযোগ্য হবেন। ১০.৪—কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট সংস্থা, ক্লাব বা প্রতিষ্ঠান যদি অনুচ্ছেদ-৯-এ বর্ণিত ক্যাটাগরি অনুসারে থাকার যোগ্যতা হারায়, তবে তাঁর মনোনয়নও বাতিল হবে। কিন্তু কোথাও উল্লেখ নেই যে কোনো ক্লাবের বিরুদ্ধে তদন্ত চলার সময় তাদের কাউন্সিলরশিপের মনোনয়ন আটকে দেওয়া বা বাতিল করা যাবে।’
মিঠু জানান, ২০ সেপ্টেম্বর বোর্ড সভায় ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পর ডাকযোগে ফর্ম পাঠানো হয়েছিল ক্লাবগুলোতে। যদি সত্যিই তাঁরা অযোগ্য হতেন, তাহলে ফর্ম পাঠানো হতো কেন? তিনি বলেন, ‘এখানে স্পষ্টতই ষড়যন্ত্র চলছে। নিয়ম মেনে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া থাকতে হয়—কমিটি গঠন করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তা করেনি। একদিকে মনোনয়ন গ্রহণ করেছে। আবার অন্যদিকে হঠাৎ খসড়া তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।’