উত্তেজনা, উন্মাদনা ও আক্ষেপের পর শেষটায় হলো দারুণ নাটকীয়তায়। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে টাইয়ের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। যদিও সুপার ওভারে শেষ হাসি হাসতে পারল না স্বাগতিকেরা। তাদের ১ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রথম দুই ওয়ানডে শেষে ১-১ সমতা হওয়ায় শেষ ম্যাচটি অলিখিত ফাইনালে রূপ নিল। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ২৩ অক্টোবর মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশের করা ২১৩ রানের জবাবে নিজেদের ইনিংসের বেশির ভাগ সময়ই ব্যাকফুটে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদের স্পিন ভেল্কিতে হারের শঙ্কায় ছিল অতিথিরা। কিন্তু তাদের আশার বাতি হয়ে একপ্রান্তে জ্বলতে থাকেন শাই হোপ। তানভীর ইসলামের এলবিডব্লু হয়ে শেরফানে রাদারফোর্ড ফিরলে পঞ্চম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জয়ের জন্য শেষ ৫ উইকেট হাতে রেখে তখনো তাদের দরকার ছিল ১১১ রান। মিরপুরের ঘূর্ণি উইকেটে যেটা বেশ কঠিন। এই সমীকরণ মেলাতে না পারলেও হোপের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ম্যাচ টাই করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন হোপ।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৫ রান করতে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সাইফ হাসানের করা প্রথম দুই বলে রান নিতে পারেননি আকিল হোসেন। তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে প্রান্ত বদল করেন তিনি। চতুর্থ বলে ১ রান নেন শাইপ হোপ। পঞ্চম বলে ছয় মারতে গিয়ে বোল্ড হন আকিল। শেষ বলে তাই ক্যারিবীয়দের সামনে ৩ রানের সমীকরণ দাঁড়ায়। এমন সমীকরণে ক্যাচ তুলে দেন শেষ ব্যাটার হিসেবে নামা খ্যারি পিয়েরে। ক্যাচ নিতে পারেননি নুরুল হাসান সোহান। ততক্ষণে দুবার প্রান্ত বদল করেন হোপ ও পিয়েরে। বাংলাদেশের সমান ২১৩ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে ১০ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিংয়ে আসেন সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার। সফরকারীদের হয়ে বল করতে এসে এক বল করতেই ৫ রান দেন আকিল হোসেন। তাঁর করা প্রথম বলটি ওয়াইড হয়। দ্বিতীয় বল নো দেন আকিল। সেই সঙ্গে দৌড়ে ২ রান নেন সৌম্য ও সাইফ। প্রথম বৈধ ডেলিভারি থেকে ১ রান নেন সৌম্য। দ্বিতীয় বল ডট হয়। তৃতীয় বলে ১ রান নেন সাইফ। চতুর্থ বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মোটির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সৌম্য। পরের বলে লেগ বাই থেকে ১ রান নেন নাহমুল হোসেন শান্ত। শেষ বলে ৪, বাংলাদেশের সামনে ৪ রানের সমীকরণ দাঁড়ায়। আকিল ওয়াইড দিলে সে সমীকরণে ৩ রানে নেমে আসে। তবে ১ রানের বেশি নিতে পারেননি সাইফ।
এর আগে টস জেতা বাংলাদেশকে এই সংগ্রহ এনে দিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন সৌম্য সরকার। এই ওপেনারের অবদান ৪৫ রান। প্রথম ওয়ানডের মতো আজও ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন রিশাদ হোসেন। ১৪ বলে ৩৯ রান করেন তিনি। মূলত তাঁর এই ইনিংসে ভর করেই লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ৩২ রান আসে মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে। ২৩ রান এনে দেন নুরুল হাসান সোহান। ৩ উইকেট নেন গুদাকেশ মোটি। ১০ ওভারে ৬৫ রান দেন তিনি। আকিল হোসেন ও আলিক আথানেজের শিকার দুটি করে উইকেট।