ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছিল অ্যাঞ্জেল গাঙ্গওয়ানির। কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রশিক্ষণও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন নিজেই শেষ করেছেন গাঙ্গওয়ানি। আত্মহত্যা করেছেন ১৯ বছর বয়সী এই নারী ক্রিকেটার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার গতকালের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, পুদুচেরিতে আত্মহত্যা করেছেন গাঙ্গওয়ানি। তিনি থিলাসপেটের একটি কোচিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন এবং সম্প্রতি থুতিপেটে পুদুচেরি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের জন্য ট্রায়ালেও অংশ নিয়েছিলেন। চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় তিনি হতাশ হয়ে সরে গিয়েছিলেন। ডি নগর থানা এরই মধ্যে এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।
গাঙ্গওয়ানির আত্মহত্যার ঘটনা মূলত গত সপ্তাহের। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, তাঁর বাড়িওয়ালা পুলিশের কাছে অভিযোগে জানান, অনুশীলন শেষে বুধবার রাত প্রায় ৮টার দিকে বাড়ি ফেরেন গাঙ্গওয়ানি। পরে রাতে কোচ যখন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তখন তিনি ফোন ধরেননি। তাতে কোচ চিন্তিত হয়ে পড়েন ও গাঙ্গওয়ানির বাড়িতে যান। বাড়িতে গিয়ে কোচ তাঁকে (গাঙ্গওয়ানি) ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলছেন। তখন বাড়িওয়ালা ও কোচ নারী ক্রিকেটারকে কথিরকামমের একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে (গাঙ্গওয়ানি) মৃত ঘোষণা করা হয়।
গাঙ্গওয়ানি দুই বছর ধরে পুদুচেরির সোক্কানাথানপেটের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।ভেলরামপেটে একটি বেসরকারি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের বিবিএ শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কাস্টমস কর্মকর্তা কাশ্মীর কুমারের মেয়ে। কাশ্মীর ১২ বছর ধরে চেন্নাইয়ে কর্মরত আছেন।
ক্রিকেটে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি এখন বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। পারফরম্যান্সের চাপ, নিয়মিত নজরদারি এবং অনিশ্চিত ক্যারিয়ার থাকায় একজন উদীয়মান ক্রিকেটারের মানসিক স্বাস্থ্যে তা প্রভাব ফেলতে পারে। তরুণ ও ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটাররা প্রায়ই দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, সীমিত সুযোগ, আর্থিক অস্থিরতা এবং বাদ পড়ার দুশ্চিন্তায় ভোগেন। এ কারণেই হয়তো গাঙ্গওয়ানি আত্মহত্যা করেছেন।