কাটার-স্লোয়ারে ব্যাটারদের বোকা বানাতে মোস্তাফিজুর রহমানের জুড়ি মেলা ভার। ব্যাটাররা অনেক সময় রান নেওয়া তো দূরে থাক, ঠিকমতো মোস্তাফিজের বলে সংযোগই করতে পারেন না। বিশেষ করে ডেথ ওভারে একের পর এক ডট দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। বাংলাদেশের তারকা বাঁহাতি পেসার এবার নাম লেখালেন নতুন এক রেকর্ডে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি তো বটেই, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) মতো টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে ব্যাটারদের ঘোল খাওয়াচ্ছেন মোস্তাফিজ। উইকেটের চেয়েও ডট বল দিয়ে আলাদা ইমপ্যাক্ট তৈরি করছেন তিনি। এবারের পিএসএলে ২১ ডট দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চম পেসার হিসেবে ৩০০০ বা তার বেশি ডট বল দেওয়ার রেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে এখন পর্যন্ত ৩২৪ ইনিংস বোলিং করে ৩০০২ বল দিয়েছেন ডট।
টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ডট বলের রেকর্ড ডোয়াইন ব্রাভোর। ২০০৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১৮ বছর ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ৫৪৬ ইনিংস বোলিং করেছেন। দীর্ঘ দেড় যুগের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তাঁর ৩৬৮১ বল থেকে প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা কোনো রানই নিতে পারেনি। দুই, তিন ও চারে থাকা মোহাম্মদ আমির, আন্দ্রে রাসেল ও সোহেল তানভীরের টি-টোয়েন্টিতে ডট বলের সংখ্যা ৩৩৪৮, ৩২১৩ ও ৩০৪৬।
মোস্তাফিজের সঙ্গে আমিরের জমজমাট প্রতিযোগিতা চলবে আরও কয়েক বছর। বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হতে মোস্তাফিজের প্রয়োজন ৩ উইকেট। এই তালিকায় সবার ওপরে থাকা আমির নিয়েছেন ৪১৮ উইকেট। দুইয়ে থাকা মোস্তাফিজের উইকেট ৪১৬। ডট বলে দুজনের মাঝে ব্যবধান ৩৪৬।
পেসারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ৩৬৮১ ডট দেওয়া ব্রাভো ২০২৪ সালের পর সব ধরনের ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছেন। সেই রেকর্ড ভাঙতে মোস্তাফিজের হাতে এখনো পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। আর মোস্তাফিজের তুলনামূলক কাছাকাছি থাকা রাসেল, তানভীর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলছেন।
২০২৬ পিএসএলে মোস্তাফিজ ও আমির খেলছেন দুটি ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলছেন। রাওয়ালপিন্ডিজের জার্সিতে আমির নিয়েছেন ৫ উইকেট। আর লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলা মোস্তাফিজের উইকেট ৪। তবে ইকোনমিতে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার অনেক এগিয়ে। এবারের পিএসএলে মোস্তাফিজ ও আমিরের ইকোনমি ৭.০৭ ও ৯.৭৮।
লাহোর কালান্দার্সের দেওয়া ১০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে গতকাল ৬২ বলেই খেলা শেষ করে দেয় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। ইসলামাবাদের রানরেট ১০.০৬ হলেও মোস্তাফিজের ইকোনমি ৮। ২ ওভারে ১৬ রান খরচ করেছেন। তিনটা ডটও দিয়েছেন। এবারের পিএসএলে এখন পর্যন্ত ১০ ওভার বোলিং করেছেন। যার মধ্যে তাঁর ২১ বল থেকে প্রতিপক্ষ দল কোনো রানই নিতে পারেনি।