আঙিনায় পাকিস্তান আর সিরিজটা যখন ওয়ানডে, তখন ২০১৫ সালটা ফিরে আসেই। ১১ বছর আগের সফরকারী দলকে তিন ওয়ানডের সিরিজের ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজের ভেন্যু আর এই সিরিজের ভেন্যু একই—মিরপুর শেরেবাংলা। পুরোনো সেই চিত্রনাট্য মেনে আজই কি সিরিজ জয় বাংলাদেশের?
প্রথম ওয়ানডেতে যে নিখুঁত ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ, তাতে অনেকের কাছেই সিরিজে বাংলাদেশই ফেবারিট। কিন্তু দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা না থাকলে ম্যাচের আগে এই এগিয়ে থাকাটা কোনো কাজে আসে না। আর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ভালো খেলেছে, এটা যেমন ঠিক, তেমনি এটাও ঠিক—প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ পাকিস্তান। এতটাই যে বাংলাদেশকে কোনো পরীক্ষাতেই পড়তে হয়নি। ৩৪.৫ বল হাতে রেখেই জিতে গেছে বাংলাদেশ। দারুণ শুরুর পর ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কণ্ঠেও তৃপ্তি, ‘এ বছর আমাদের অনেক ওয়ানডে ম্যাচ, র্যাঙ্কিংয়ের বিষয় আছে। শুরুটা ভালো হয়েছে।’
আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের বাজে একটি দিন ছিল এটি। খুব সম্ভব সিরিজের সবচেয়ে বাজেও। তাই শক্তভাবেই আজ দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে তারা। জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেট হাবিবুল বাশারের আশঙ্কা অন্তত তেমনই, ‘পাকিস্তান ভালো একটা দল। ওরা অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে।’
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছে পাকিস্তানের চার ব্যাটার—সাহিবজাদা ফারহান, আবদুল সামাদ, মাজ সাদাকাত ও শামিল হুসেনের। প্রাক্-সিরিজ আলোচনাতেও ছিলেন অভিষেক প্রত্যাশী এই ক্রিকেটাররা। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন করে দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান। প্রতিশ্রুতিশীলদের জায়গা করে দিতেই একাধিক নতুন মুখ নিয়ে সফরে এসেছে পাকিস্তান। নাহিদ রানার আগুন ঝরানো বোলিংয়ের সামনে অভিষিক্ততে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। গতি আর ভয়ংকর বাউন্সারের সমানে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান কিংবা সালমান আলী আগাও সুবিধা করতে পারেননি। ফল বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে নিজেদের সর্বনিম্ন ১১৪ রানে অলআউট।
ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংয়েও ছন্নছাড়া পাকিস্তান। একে তো যৎসামান্য পুঁজি, তাঁর ওপর নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে ব্যর্থ পাকিস্তান। ভাবা যায় ১৪টি ওয়াইড দিয়েছেন সফরকারী বোলাররা!
তবে আজকের লড়াইটি যখন পাকিস্তানের বাঁচা-মরার, তখন নিজেদের সেরাটি দিয়েই লড়াই করবে এটাই স্বাভাবিক। এ পরিস্থিতি বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের কতটা পুনরাবৃত্তি করতে পারে, সেটাই দেখার! হাবিবুল বাশার তো এখানেই দলের চ্যালেঞ্জ দেখছেন, ‘গত দু-তিন বছরে যে খুব খারাপ খেলেছি তা না, আমাদের পারফরম্যান্সের গ্রাফটা ওঠানামা একটু বেশি করেছে। যার জন্য মানুষ বলে আমরা কক্ষচ্যুত। আমরা কিন্তু কক্ষচ্যুত নই, আমাদের শুধু ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা খুব দরকার।’ পাকিস্তান আড়াই শ রান করলেও জেতার মানসিকতা এবং সামর্থ্য দলকে দেখাতে হবে বলে মনে করে বাশার।
জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করায় অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই হয়তো খেলতে পারে বাংলাদেশ। তবে পাকিস্তান দলে পরিবর্তনের সমূহ সম্ভাবনা। একাদশে ফিরতে পারেন পেসার হারিস রউফ।