রোস্টন চেজের স্টাম্প বরাবর করা বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে অং অনে জশুয়া বিশপের হাতে ধরা পড়েন নাঈম। আউট হয়ে হতাশায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাঁকে। হতাশায়-রাগে শূন্যে ব্যাট ঘোরাতে ঘোরাতে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন নাঈম।
হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়লেও দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ৫২ রান করেন নাঈম। টপঅর্ডার ও মিডলঅর্ডারদের ব্যর্থতার পর মূলত তাঁর ব্যাটে সওয়ার করেই ঢাকা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। জিততে হলে ক্যারিবীয়দের করতে হবে ১৭০ রান। মিরপুরের উইকেটের বাস্তবতায় এই রান করতে বেশ কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে তাদের।
প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড নেওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানে অলআউট হয়েছে। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। দলীয় ৫৩ রানেই ৬ ব্যাটারকে হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যায় স্বাগতিকেরা। এরপর জাকের আলীকে নিয়ে তৃতীয় দিনের বাকি অংশে আর কোনো বিপদ হতে দেননি নাঈম। ২৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন পার করেন তাঁরা দুজন।
আজ দিনের শুরুতেই একটি বাউন্ডারি মেরে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন জাকের। কিন্তু স্লিপে চেজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২২ রানেই থামেন তিনি। সঙ্গী হারালেও দমে যাননি নাঈম। একপ্রান্ত আগলে রেখে হাসান, মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলামকে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন। অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তা দেখিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন। পুরো সময় পরিণত ব্যাটারের মতোই ব্যাট চালিয়েছেন। কঠিন বল ডিফেন্স করেছেন। সুযোগ পেলেই বাউন্ডারিতে বল সীমানা ছাড়া করেছেন। নাঈম জ্বলে উঠলেন দলের ক্রান্তিকালেই।
নাঈম যেখানে হিসেব এবং দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেছেন, সেখানে লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্তরা ছিলেন বেশ মলিন। এদের কেউই বল পড়তে পারেননি। তানজিদ হাসান তামিম ও হৃদয় তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি। আউট হওয়া প্রথম ৬ ব্যাটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ২২ রান করেন জাকের। হৃদয় তো আরও একবার আউট হয়েছেন কাণ্ডজ্ঞানহীন শট খেলে। স্বীকৃত ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতার পর মনে রাখার মতো একটা ইনিংসই খেলেলেন নাঈম।