রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে আগামীকাল পঞ্চম ও শেষ দিন বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাচ না হেরে কোনো রকম ড্র হলেও পাকিস্তানকে সিরিজ হারিয়ে ইতিহাস গড়ার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। জয়ের জন্য ১০ উইকেটে তাদের প্রয়োজন আর ১৪৩ রান। জয়ের হিসাব না হয় শেষ দিনের জন্যই তোলা থাক। জয়ের পথ তৈরি করে দেওয়া বাংলাদেশের পেসারদের ইতিহাসই তো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দ্বিতীয় ইনিংসে।
প্রথম টেস্টে ম্যাচ জেতানো বোলিংটা করেছিলেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। দ্বিতীয় টেস্টে সে দায়িত্ব নিলেন পেসাররা। টানা দুই টেস্ট এক মাঠে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে উইকেট কিছুটা বোলিং সহায়ক হয়ে উঠবে। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে টেস্টে প্রথমবার কোনো ইনিংসে প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটের নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন বাংলাদেশের পেসাররা। অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদের সঙ্গে উজ্জ্বল দুই তরুণ হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানা—১৭২ রানেই দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করলেন হাসান ও নাহিদ। ১০.৪ ওভারে ৪৩ রানে ৫ উইকেট নেন হাসান। ইবাদত-শরীফুল ফিট থাকলে হয়তো সুযোগই পেতেন না দলে। ১১ ওভারে নাহিদের শিকার ৪৪ রানে ৪ উইকেট। একটি নিলেন তাসকিন। এর আগে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একবার করে এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুবার টেস্টে এক ইনিংসে ৯ করে উইকেট নিয়েছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর আগে দুবার পেসাররা নিয়েছেন ১০ উইকেট। গত বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে নিয়েছিলেন প্রথমবার। সে ম্যাচেও ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন হাসান। এবার পাকিস্তানের মাঠে তো বটেই, পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম পেসার হিসেবে নিয়েছেন ৫ উইকেট।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অর্জন প্রসঙ্গে হাসান বললেন, ‘আসলে আমি বলতে চাই, ৫ উইকেট পাওয়াটা আনন্দের ব্যাপার, দেশ এবং দলের জন্য গর্বের ব্যাপার। টেস্ট ম্যাচ খেলে একটি ম্যাচে আমরা জিতলাম। এখন আরও একটি ম্যাচে ভালো করতে পারছি এখানেও জেতার সুযোগ রয়েছে। অনেক খুশি আমরা।’
খেলার পাশাপাশি পাকিস্তানের আতিথেয়তা নিয়েও মুগ্ধ হাসান। আতিথেয়তা নিয়ে বললেন, ‘আসলে যখন প্রথমে এলাম দেখলাম পাকিস্তান অনেক সুন্দর। আবহাওয়া, নিরাপত্তা, শহর সবকিছু দুর্দান্ত ছিল। খাবার কিছুটা (হাসির কারণে বোঝা যায়নি)। তবে ঠিক আছে এটা, এ রকম খাবার খেতে হবে মাঝেমধ্যে। দারুণ সাহায্যপূর্ণ ছিল, স্বাস্থ্যকর ছিল।’
তারপর সাংবাদিকের প্রশ্নে পাকিস্তানে ভ্রমণের ব্যাপারে হাসান যোগ করেন, ‘আমি মনে করি, আপনারা চাইলে যেকোনো সময় পাকিস্তানে আসতে পারেন। আপনারা চাইলে পাকিস্তান ভ্রমণ করতে পারেন, এটা অনেক নিরাপদ জায়গা।’